একজন সাব-এডিটরের কতিপয় ছেঁড়াখোঁড়া দিন- উপন্যাস প্রসঙ্গে: রুবাইয়াৎ আহমেদ

অতিথি লেখক

একজন   সাব-এডিটরের   কতিপয়
ছেঁড়াখোঁড়া দিন’ উপন্যাস প্রসঙ্গে
[প্রথম ফ্ল্যাপ থেকে]
আখ্যানের ভেতরে কাহিনি এবং চরিত্রের মিশেলে জমজমাট গল্পই তো থাকে। একজন   সাব-এডিটরের কতিপয় ছেঁড়াখোঁড়া দিন আখ্যানটিও গড়ে উঠেছে কাহিনি ও গল্পের ডালপালা সঙ্গে নিয়ে। কিন্তু এর গড়ে ওঠা বেড়ে ওঠায় কাহিনির চিরাচরিত বয়ান ছাড়িয়ে মনোযোগটি কেবল প্রধান চরিত্রের বিস্তারে। এবার সেই চরিত্রের নামটি তো জানা চাই। তবে উপন্যাসে প্রথাগত নামের বদলে সবার সামনে তার আদল ভেসে ওঠে ‘আমাদের সাব- এডিটর’ নামে।আর গোটা উপন্যাসে ‘আমাদের সাব-এডিটর’-এর চোখ  দিয়েই অমরা দেখি, সমকালীন পৃথিবীর ঝঞ্ঝারূপ – ইরাকের সাদ্দাম পর্ব, তিউনিসিয়ায় আরব – বসন্তে উন্মেষ, লিবিয়ায় গদ্দাফির পতন, মিসরে মোবারক যুগের অবসান থেকে শুরু করে মাইকেল জ্যাকসন ও সানি লিওনের জলসা-জগৎ।আর এই সব ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে বিদ্যুচ্চমকের মতো কখনো বা ভেসে ওঠে বাংলাদেশের মুখ। অজস্র সাব-এডিটরের  নিত্যকার জীবনও।খবরের মধ্যে কাহিনি এবং খবরের সঙ্গে খবর জোড়া দিয়ে গড়ে ওঠা এই উপন্যাসের লিখনভঙ্গিমা অভিনব।রচনাশৈলী ও নির্মাণের দিক দিয়েও এটি ভিন্ন ধারার।পড়তে পড়তে উপন্যাসের ছকবদ্ধ, চিরচেনা রূপটি আপনি না-ও পেতে পারেন। তবে নিশ্চিতই আপনার সামনে ধরা দেবে নতুন    এক জগৎ। আর ‘আমাদের সাব-এডিটর’ সেখানে বারবারই আপনার সামনে ছুড়ে দেবে রক্তাক্ত প্রশ্নগুচ্ছ! জেমকন তরুণ কথাসাহিত্য পুরস্কার ২০১৫ প্রাপ্ত উপন্যাস ‘একজন সাব-এডিটরের কতিপয় ছেঁড়াখোঁড়া দিন’ অমর একুশে বইমেলা ২০১৬তে প্রকাশিত হয়েছে। কাগজ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বইটির বিনিয়ম মূল্য: ২০০ টাকা। এর প্রচ্ছদ করেছেন সব্যসাচী হাজরা।
 
Sub_Coverরুবাইয়াৎ আহমেদ
জন্ম নেত্রকোণা শহরে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। পিএইচ.ডি. ডিগ্রি অর্জন করেছেন ‘বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নারী:শিল্প ও সমাজবাস্তবতার প্রেক্ষাপটে (২০০০ সাল পর্যন্ত)’- শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য।প্রকাশিত গ্রন্থ  নির্বাচিত কবিতা [হ্যারল্ড পিন্টার ও ইসমাইল কাদারে], বর্ণদূত [আখ্যান], পঞ্চস্বর [অনুবাদ নাটক সংকলন],আত্মহনন কিংবা
স্বপ্নপোড়ানো আখ্যান [গল্প], আলসেকুঁড়ে [ছোটদের গল্প], জিয়ন্তকাল
[আখ্যান], সীমানা ছাড়িয়ে [অনুবাদ], তারেক মাসুদ [গবেষণা],
হিড়িম্বা [আখ্যান], রঙমহাল [আখ্যান]।
সম্পাদনা
গ্রাম থিয়েটার পত্রিকা, দ্বৈত ও গৌড়জন।

উপন্যাসের কিছু উল্লেখযোগ্য অংশ
একজন সাব-এডিটরের জীবন   এমনিতেই  একঘেয়েমির  রুটিনে  বাঁধা। সংগতি আর অসংগতির উকুন বাছতে বাছতেই দিন কাটে তার। উচ্চকণ্ঠ  না হলে অথবা নিয়মিত হস্ত-কচলানো কৌশল যদি রপ্ত করা না যায়, তবে সাব-এডিটরদের ভাগ্যের বিশেষ কোনো পরিবর্তন হয় না। অফিস- নির্ধারিত বৈষম্যমূলক মজুরিতেই কাটিয়ে দিতে হয় জীবনের দিনগুলো।আর যদি ‘কবিত্ব’ নামক একটি পদার্থ কিঞ্চিৎ পরিমাণে কোনো সাব-এডিটরের ভেতরে থাকে, তবে সর্বনাশের ষোলোকলা পূর্ণ হয় আরকি!    একজন রাষ্ট্রনায়ক নিজের ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করতে কত ছলচাতুরীই না করেন। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, একচ্ছত্র ক্ষমতার জন্য নানা অজুহাতে সাদ্দাম হত্যা করেছিলেন এক লাখ আশি হাজারের বেশি মানুষ।আমাদের সাব-এডিটরের স্মরণে আসে, বিচারে সাদ্দামকে মৃত্যুদ- দেওয়া হয়েছিল।তার মৃত্যুদ- কার্যকরের দৃশ্যটি   পারভার্ট বুশ প্রশাসন ভিডিওতে ধারণ করে ছড়িয়ে দেয় বিশ্বময়। অবশ্য গোপনে। সাদ্দামের ফাঁসির পূর্বাপর বর্ণিত হয়েছে বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে।
***
আমাদের সাব-এডিটর সেদিন বুঝে গিয়েছিল, পুঁজিবাদী সভ্যতার অনুপম সৃষ্টি জ্যাকসন আর তার অকালপ্রয়াণও প্রকট করে তোলে বৈষম্যবাদী এই বিশ্বের অসাড়তা। কিন্তু কীভাবে? তার তখন ক্রিস্টোফার মার্লোর ‘ডক্টর
***
শিশুদের নিয়ে ভাবতে ভাবতে কিশোর বয়সের একটি ঘটনার কথা স্মরণে আসে আমাদের সাব-এডিটরের। একদিন স্কুলে যাওয়ার পথে নদী পার হতে গিয়ে ডুবে যায়  গুদারা নৌকাটি ভয়ে-আতঙ্কে চিৎকার করে দুই পাড়ের মানুষেরা। বর্ষার নদী তখন খরস্রোতা। কাঁধের ব্যাগ তবু ভাসিয়ে দেয়নি জলে। কালোমতো একটি শিশু খাবি খায় পানিতে। এই বুঝি গেল তলিয়ে। হাত বাড়িয়ে সেই শিশুটিকে ধরে ফেলে সে। আর তখুনি নদীর পাড়ে নুয়ে থাকা একটি  গাছের ডালের  সন্ধান  পেয়ে   যায়।   অপর   হাতে   সেটিই  ধরে  আঁকড়ে।   শিশুটির   বাবা   পেশায়   মেথর।   তীরে   উঠে   আসার   পর   সেই   মেথর  চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে শিশুটিকে কেড়ে নেয় প্রায়। তারপর জড়িয়ে  ধরে। কিছুক্ষণ পর সেই মেথর এসে তার পায়ের কাছে মাথা ঠেকিয়ে বলেছিল –   তু দেব্তা আছিস বাপ, তু দেব্তা।
***

Print Friendly