সাহিত্য বাজার সম্মাননা পাচ্ছেন আবৃত্তিশিল্পী মীর বরকত : এ.এফ. আকরাম হোসেন

অতিথি লেখক

একজন মীর বরকত : একের ভেতর অধিক

এ.এফ. আকরাম হোসেন

Borkoto-vai--photo

মীর বরকত-এর সংক্ষিপ্ত কর্মবৃত্তান্ত
পোষাকী নাম : মীর বরকতে রহমান
মাতার নাম : রশিদা বেগম
পিতার নাম : মীর মসুদার রহমান
স্ত্রীর নাম : শামীমা আখতার বেগম
সন্তান : এক পুত্র ও দুই কন্যা সন্তান
জন্ম : ১লা জুলাই ১৯৫৮
জন্মস্থান : ময়মনসিংহ
প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ : স্নাতকোত্তর এবং ডিএআইবিবি
প্রশিণ গ্রহণ :
নাট্যশিাঙ্গন থেকে ১৯৮৩ সনে এক বছরের নাট্য বিষয়ক সার্টিফিকেট কোর্স
গণমাধ্যম ইনসটিটিউট থেকে ১৯৮৪ সনে সংবাদ উপস্থাপনা ও রিপোর্টিং কোর্স
প্রকাশিত গ্রন্থ : আবৃত্তির কাস
একক আবৃত্তি অনুষ্ঠান : আজ অভিষেক আমার
নির্দেশিত আবৃত্তি প্রযোজনা :
তপস্বী ও তরঙ্গিণী রচনা : বুদ্ধদের বসু কণ্ঠশীলন
রবি ঠাকুর কবি ঠাকুর রচনা :সুনীল জানা কণ্ঠশীলন
গুটুল মুটুল গ্রন্থনা : মীর বরকত শিশুতীর্থ
কেবল হাসির দেশে গ্রন্থনা : মীর বরকত শিশুতীর্থ
আমিনা মদিনার গল্প রচনা : সেলিনা হোসেন কণ্ঠশীলন
রোমিও জুলিয়েটের গল্প রচনা : নুরুল হুদা কণ্ঠশীলন
অনা¤œী অঙ্গনা রচনা : বুদ্ধদেব বসু কণ্ঠশীলন
ওরা বেজে ওঠে শূন্য প্রহরে গ্রন্থনা : মীর বরকত কণ্ঠশীলন
আবদারের আধঘন্টা গ্রন্থনা : মীর বরকত মুক্তধারা
ভাষার লড়াই রচনা : রফিকুর রশীদ কণ্ঠশীলন
দেশদ্রোহীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী গ্রন্থনা : রেজিনা বেগম কণ্ঠশীলন
রাজপুত্তুর গ্রন্থনা : মীর বরকত মুক্তালয় আবৃত্তিবিকাশ কেন্দ
রঙ্গ গ্রন্থনা : মীর বরকত মুক্তালয় আবৃত্তিবিকাশ কেন্দ্র
আনন্দেতে জাগো গ্রন্থনা : মীর বরকত তেপান্তরের তিনজন
সবচেয়ে সুন্দর (গল্পকথন) গ্রন্থনা : মীর বরকত উদ্ভাসন
নক্সী কাঁথার মাঠ রচনা : জসীম উদ্দীন উদ্ভাসন
আলো মাখো ভালো থাকো গ্রন্থনা : মীর বরকত চারুবাক
তোমার আকাশ দাও গ্রন্থনা : মীর বরকত তেপান্তর
যুদ্ধ শেষের যুদ্ধ গ্রন্থনা : মীর বরকত কণ্ঠশীলন
বর্ষামানব রচনা : রাজীব দে কণ্ঠশীলন
একাত্তরের ফুল গ্রন্থনা : মীর বরকত কল্পরেখা
বারো গাঁয়ের তেরো ভুত গ্রন্থনা : মীর বরকত কল্পরেখা
ছড়ায় ছবিতে মুক্তিযুদ্ধ রচনা : লুৎফর রহমান রিটন কল্পরেখা
কল্পলোকের গল্পকথা দেশটিভিতে ছোটদের অনুষ্ঠান
নির্দেশিত নাটক :
রাজা-রানী রচনা : সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কণ্ঠশীলন
যা নেই ভারতে রচনা : মনোজ মিত্র কণ্ঠশীলন
গণ-মাধ্যম ইনসটিটিউট, পিআইবি, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্র, কণ্ঠশীলন, ছায়ানট (ভাষার আলাপ), শিল্পকলা একাডেমীসহ প্রায় ৪০টি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানে বাচিক মাধ্যমের প্রশিক।
বিভিন্ন দায়িত্বে যুক্ত :
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রশিক কণ্ঠশীলন
উপদেষ্টা উদ্ভাসন, মুক্তালয় আবৃত্তি বিকাশ কেন্দ্র
সভাপতি কল্পরেখা, শিশুতীর্থ
নির্বাহী সদস্য কল্যাণ পরম্পরা
সাধারণ সদস্য ছায়ানট সঙ্গীত বিদ্যায়তন
সাধারণ সদস্য বাংলাদেশ ব্রতচারী সমিতি
সদস্য নরেন বিশ্বাস পদক মনোনয়ন কমিটি
সম্মাননা প্রাপ্তি :
শ্রেষ্ঠ নির্দেশক স্বরকল্পন আবৃত্তি চক্র (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)
অপু সম্মাননা পদক আবৃত্তি অঙ্গন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)
শ্রেষ্ঠ বক্তা আনন্দমোহন কলেজ
অভিনয়ে বিশেষ সম্মান আনন্দমোহন কলেজ
নাট্য নির্দেশনা আমরা কতিপয় নাট্যগোষ্ঠি (ময়মনসিংহ)
সম্মাননা পদক সোনালী ব্যাংক ক্রীড়াবিদ ও শিল্পী কল্যাণ পরিষদ
আবৃত্তি সম্মাননা পদক ’০৭ (শ্রেষ্ঠ নির্দেশক) ঢাকা স্বরকল্পন
চয়ন সাহিত্য কাব স্বর্ণপদক, ২০১০
মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড, ২০১১ ইউনিসেফ
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ :
মুক্তধারা আবৃত্তি চক্র আয়োজিত আবৃত্তি উৎসবে, পাবলিক লাইব্রেরি, শওকত ওসমান মিলনায়তন, ঢাকা।
বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ আয়োজিত আবৃত্তি উৎসবে, শিল্পকলা একাডেমি, চট্টগ্রাম।
নন্দন কানন আয়োজিত আবৃত্তি উৎসবে, পাবলিক লাইব্রেরি, ঢাকা।
বিবর্তন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠি আয়োজিত উৎসবে, টঙ্গী সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে।
সাহিত্য বাজার বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব
গণমাধ্যম :
বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন চ্যানেলে আবৃত্তি, গল্পবলা, ছড়া প্রযোজনার নির্দেশনা ও আলোচনা অনুষ্ঠান এবং আবৃত্তিতে অংশগ্রহণ।
দেশ টিভির ‘কল্পলোকের গল্পকথা’ ধারাবাহিক গল্পানুষ্ঠানের নির্দেশক।
বাংলাভিশনের সংবাদ বিষয়ক রিপোর্টারদের প্রশিক।
আরটিভির নবীন সংবাদ উপস্থাপকদের প্রশিক

সাহিত্য বাজারের সাহিত্য সন্মাননা (মূল্যমান নগদ ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা, স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভরশীল) যুক্ত হয়েছে আরো একটি নাম। আবৃত্তি বিষয় নিয়ে লেখার জন্য আবৃত্তিশিল্পী মীর বরকত পেয়েছেন এই সম্মাননা। এর আগে গত ২০০৮ এর এপ্রিল থেকে বর্তমান ২০১৪ পর্যন্ত সাহিত্য বাজারে ম্যাগাজিন ও অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ও সাহিত্য সমালোচনাগুলোর মান ও পাঠক ক্লিকের বিবেচনায় সেরা লেখক মনোনয়ন হয়েছেন গল্পে আতা সরকার ও নাসরীন জাহান, কবিতায় ময়মনসিংহের কবি শামসুল ফয়েজ ও কবি ওমর কায়সার, শিশুসাহিত্যে বরিশালের ছড়াকার দীপঙ্কর চক্রবর্তী ও ছোটকাকু সিরিজের লেখক ফরিদুর রেজা সাগর এবং সাহিত্য সমালোচনায় আশীক চৌধুরী । আগামি ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিতব্য সাহিত্য বাজারের প্রতিষ্টাকালীন উৎসবে এ সম্মাননা প্রদান করা হবে জেনে আমরা আবৃত্তি অঙ্গনের লোকেরা অত্যন্ত আনন্দিত। খুব সম্ভব এটাই প্রথম কোনো সাহিত্য পত্রিকা আবৃত্তিশিল্পীদের সম্মান দেখাচ্ছে।

সংস্কৃতি অঙ্গণে নিষ্ঠাবান শিল্পী যাঁদেরকে দেখার, জানার ও চেনার সুযোগ আমার হয়েছে, তাঁদের মধ্য থেকে অন্যতম একজন হিসেবে গত প্রায় দেড় দশক ধরে যাঁকে আমি দেখেছি, জেনেছি-চিনেছি তিনি আবৃত্তি প্রশিক্ষক মীর বরকত। কথা-বার্তায়, চাল-চলনে, আচার-আচরণে, বেশ-ভূষায় মার্জিত রুচি সম্পন্ন একজন মানুষ। স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে বিশিষ্ট এক সাংস্কৃতিক জন। হালের চাকচিক্য নেই আছে পারিবারিক ঐতিহ্যের বহন। পরনিন্দা-পরচর্চার বাতিক নেই, আছে পরকল্যাণের চেষ্টা।

আত্মপ্রচারবিমুখ, নিরলস কর্মদ্যোমি, প্রাণোচ্ছল ও সহিষ্ণু আত্মপ্রত্যয়ী অমায়িক মানুষ মীর বরকত। পেশাগত জীবনে দেশের বৃহৎ একটি ব্যাংকের একজন সহকারি মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। পেশাগত জীবনেও সাফল্য তাঁকে আহ্বান করেছে যথা সময়েই। আর তা সম্ভব হয়েচে তাঁর নিষ্ঠা-সততা ও একাগ্রতার জন্যই। যোগ-বিয়োগ-পূরণ-ভাগের মত কঠিন পেশায় নিয়োজিত থেকেও সাংস্কৃতিক-প্রয়োগিক চর্চায়-নির্দেশনায় প্রশিক্ষণদানে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে স্বগৌরবে দীর্ঘকাল তাঁর বিচরণ যেমন মুগ্ধ করে, ঠিক তেমনি বিস্মিতও করে। কেননা, আমার জানা মতে ব্যাংকিং পেশায় নিয়োজিত জনদের নির্ধারিত সময়সূচি তো বটেই, তার অতিরিক্ত সময়েও পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে হয়। সুতরাং হাতে সময় মেলে খুবই কম। যেটুকুন সময় মিলে সেটুকুকে মীর বরকত যথাযথ ভাবে নিজস্ব সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রায় বিনিয়োগ করছেন, আর এগুচ্ছেন ধাপে ধাপে। এই যে তাঁর নিয়মানুবর্তিতা একে সাধুবাদ দিতেই হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে সাহিত্যের বাচিক চর্চা ও প্রসার প্রতিষ্ঠান ‘কণ্ঠশীলন’। এর জন্মলগ্ন থেকেই মীর বরকত প্রতিষ্ঠানটির সাথে যুক্ত আছেন। বর্তমানে তিনি উঁচু স্তরের একজন শুদ্ধ উচ্চারণ ও আবৃত্তি প্রশিক্ষক। তাঁর প্রশিক্ষণদান কৌশল প্রশিক্ষণার্থীদের মুগ্ধ করে।

আজ থেকে প্রায় দেড় দশক পূর্বে কণ্ঠশীলনের এক আবর্তনে প্রশিক্ষণ দাতা হিসেবে বাকশিল্পাচার্য শ্রদ্ধেয় নরেন বিশ্বাস এবং রবীন্দ্র সঙ্গীত বিশেষজ্ঞ কণ্ঠশীলন অধ্যক্ষ শ্রদ্ধেয় ওয়াহিদুল হক-এর পাশাপাশি প্রশিক্ষক হিসেবে শ্রদ্ধেয় মীর বরকতকে পেয়েছিলাম। ইতিমধ্যে শ্রদ্ধেয় নরেন বিশ্বাস ও শ্রদ্ধেয় ওয়াহিদুল হক ইহলোক ত্যাগ করেছেন। আমি শ্রদ্ধাভরে তাঁদের স্মরণ করছি।

সাধারণত মানুষের শেখার যে বয়স, সে বয়সের অনেকটা পেরিয়ে এসে কণ্ঠশীলনে প্রশিক্ষণ নিতে এসেছিলাম। সেদিক থেকে বয়সের তুলনায় মীর বরকত আমার অনুজ প্রতীম হলেও প্রশিক্ষক হিসেবে শ্রদ্ধার জন। ব্যক্তিমানুষ মীর বরকত নিরহংকারী এবং বন্ধু বৎসল বিধায় আমাকে বন্ধুর মতই অধিকার দিয়েছেন।

দিন গড়াচ্ছে, মীর বরকত এগুচ্ছেন ধাপে ধাপে। বর্তমানে তিনি একের ভেতর অধিক। ভোকাল প্রশিক্ষক, প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষক, আবৃত্তি প্রযোজনা ও কাব্যনাটক নির্দেশক, নাট্য নির্দেশক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পদাধিকারী। উল্লেখ্য যে তিনি প্রশিক্ষক হিসেবে ঢাকায় কণ্ঠশীলন, বৈকুণ্ঠ আবৃত্তি একাডেমি, মুক্তধারা সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্র, স্বরকল্পন, স্বরশীলন, ঢাকা স্বরকল্পন, স্বরবৃত্ত, চারুকণ্ঠ, আবৃত্তি একাডেমি, আবৃত্তিশীলন, হৃদয়বৃত্তি, কণ্ঠবুয়েট, পাঠশালা, প্রকাশ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, আবৃত্তি অঙ্গন, ধ্বনি (জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়), মিথস্ক্রিয়া (মিরপুর) ইত্যাদি ছাড়াও চট্টগ্রামে বোধন, থিয়েটার ওয়ার্কশপ ও নতুন কুঁড়ি এবং বাংলাদেশ ব্যাংক স্কুল। কুমিল্লায় আবৃত্তি সংসদ, চারণ, সেঁজুতি এবং তীর্থ। ময়মনসিংহে আবৃত্তি নিকেতন, শব্দ এবং পিলসুজ। টঙ্গীতে বিবর্তন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাহিত্য একাডেমি। খাগড়াছড়িতে উজানী ও আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ (ফেনি), মৃত্তিকা। এসব সংগঠনে তিনি নিরলস ভাবে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং দিচ্ছেন।

প্রাতিষ্ঠানিক ও অতিথি প্রশিক্ষক হিসেবে তিনি যুক্ত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (ঢাকা), শিল্পকলা একাডেমি (সুনামগঞ্জ), বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, নাট্য শিক্ষাঙ্গন, মুক্তালয় নাট্যাঙ্গন ও আবৃত্তি বিকাশ কেন্দ্র, তৈরি (সংবাদ উপস্থাপনা ও রিপোর্টিং), বিয়াম কালচারাল সেন্টার।

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী মীর বরকত আবৃত্তি প্রযোজনা ও কাব্য নাটক নির্দেশনা করেছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যাক।

তাঁর নির্দেশনায় কণ্ঠশীলন প্রযোজনা তপস্বী ও তরঙ্গিণী, রচনা-বুদ্ধদেব বসু, রবি ঠাকুর কবি ঠাকুর, রচনা-সুনীল জানা, আমিনা মদিনার গল্প, গল্প রচনা-সেলিনা হোসেন, রোমিও জুলিয়েটের গল্প, রচনা-নুরুল হুদা, অনাম্নী অঙ্গনা, রচনা-বুদ্ধদেব বসু, ওরা বেজে ওঠে শূণ্য প্রহরে এর গ্রন্থনার কাজটিও করেছেন তিনি। মুক্তধারার ‘আবদারের আধঘণ্টা গ্রন্থনা ও নির্দেশনা করেছেন মীর বরকত। অতি সম্প্রতি যে অসাধারণ কাজটি করেছেন তিনি সেটি হলো ‘ভাষার লড়াই’ রচনা রফিকুর রশীদ, প্রযোজনা-কণ্ঠশীলন নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া মুক্তালয় আবৃত্তি বিকাশ কেন্দ্রের রাজপুত্তুর ও রঙ্গ এর মহড়া চলছে। এটিও গ্রন্থনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। এ কাজগুলোর প্রেক্ষিতে প্রশংসাও পেয়েছেন অনেক।

সম্প্রতি নাটকের অঙ্গনে তিনি নাট্য নির্দেশক হিসেবে আলোচিত। (বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন কর্তৃক অনুদানপ্রাপ্ত নাটক) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত রাজা-রানী (দল-কণ্ঠশীলন) মঞ্চায়নের পর দর্শক শ্রোতার কাছ থেকে ভূয়সী প্রশংসা লাভ করে।

তাছাড়া মুক্তালয় থিয়েটারের আয়োজনে একটি নাটক, মূল গল্প-বনফুল নাট্যরূপ দিয়েছেন দীপক চৌধুরী, নির্দেশনা দিচ্ছেন মীর বরকত। নাটকটি মহড়া চলছে।

এ তো গেল নাট্যনির্দেশনার দিক। পদাধিকারী হিসেবেও মীর বরকত বেশ কটি সংগঠন-প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত আছেন। যেমন-উপদেষ্টা ও প্রশিক্ষক ‘কণ্ঠশীলন’, পরিচালক-শিশুতীর্থ, সহ-সভাপতি-সোনালী ব্যাংক ক্রীড়াবিদ ও শিল্পী কল্যাণ পরিষদ, সদস্য-ছায়ানট সঙ্গীত বিদ্যায়তন এবং সদস্য নরেন বিশ্বাস পদক মনোনয়ন কমিটি। যে বিষয়েই তিনি নিজেকে সম্পৃক্ত করেন সে বিষয়েই তিনি আন্তরিক।

mir borkot

কণ্ঠশীলন অনুষ্ঠানে আবৃত্তিশিল্পী মীর বরকত

সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশ টেলিভিশন সহ অনেকগুলো চ্যানেলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁকে দেখা যায়, যেমন-এনটিভি, বাংলাভিশন, চ্যানেল আই, এটিএন বাংলা, চ্যানেল ওয়ান ইত্যাদি চ্যানেলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি, আলোচক ও আবৃত্তি শিল্পী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন। লক্ষণীয় যে বাংলাদেশের প্রথম আবৃত্তির প্যাকেজ অনুষ্ঠান ‘রবিঠাকুর কবি ঠাকুর’ এর নির্দেশক মীর বরকত যেটি রবীন্দ্র জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে প্রচারিত হয়েছিলো।

এই গুণি ব্যক্তি বিভিন্ন সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন। যথা-

মুক্তধারা সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্র আয়োজিত আবৃত্তি উৎসবে, শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তন, ঢাকা

বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ আয়োজিত আবৃত্তি উৎসব, শিল্পকলা একাডেমি, চট্টগ্রাম

নন্দন কানন আয়োজিত আবৃত্তি উৎসবে, পাবলিক লাইব্রেরি, ঢাকা

বিবর্তন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী আয়োজিত উৎসব, টঙ্গী সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ

বিরামহীন এই সাংস্কৃতিক পথচলার মধ্যদিয়ে শ্রদ্ধাভাজন মীর বরকত নাট্যশিক্ষাঙ্গন থেকে ১৯৮৩ সনে এক বছরের নাট্য বিষয়ক সার্টিফিকেট কোর্স করেছেন। এবং গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৮৪ সনে সংবাদ উপস্থাপনা ও রিপোর্টিং কোর্স করেছেন।

জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে তিনি কাজে লাগাতে চান। আর সেই লক্ষ্যেই ছুটে চলেন বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায়। কোথাও আবৃত্তি শিল্পী হিসেবে, কোথাও প্রশিক্ষক, কোথাও নাট্যশিল্পী হিসেবে, কোথাওবা নির্দেশক। তাঁর এই কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিও তিনি পেয়েছেন ও পুরস্কৃত হয়েছেন বহুবার। শ্রেষ্ঠ নির্দেশক হিসেবে ঢাকায় স্বরকল্পন আবৃত্তি চক্র কর্তৃক পদক প্রাপ্ত হয়েছেন। আবৃত্তি অঙ্গন ঢাকা কর্তৃক অপু সম্মাননা পদক পেয়েছেন, আনন্দমোহন কলেজ হতে শ্রেষ্ঠ বক্তা পদক, একই কলেজ থেকে অভিনয়ে বিশেষ সম্মান পদক এবং নাট্য নির্দেশনার জন্য ‘আমরা কতিপয় নাট্যগোষ্ঠী (ময়মনসিংহ) কর্তৃক পদক প্রাপ্ত হন।

মানুষ যা চায় তার সবটা পায় না। এই পাওয়া না পাওয়ার মধ্য  থেকে যিনি সিংহভাগ পান তিনিই তো সফল, আর সেখানেই তাঁর আনন্দ। তাই তো কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় বলতে হয়-

‘আমার এই পথ চাওয়াতেই আনন্দ’

মীর বরকত’র লক্ষ্য বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিম-ল প্রমিত উচ্চারণ ও দক্ষতার শৈলীতে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে সে উদ্দেশ্যেই তার এ পথ চলা-পথ চাওয়া।

একটু পেছন ফিরে তাকাতে চাই। আমার লেখা ২৬টি গান শাওন চৌধুরীর সুরে ১৩ জন সঙ্গীত শিল্পীর পরিবেশনায় একটি ‘সঙ্গীত সন্ধ্যা’ চার ঘণ্টা স্থায়ী অনুষ্ঠান এলিফ্যান্ট রোড, আছহাব ভবনে ১৯৯৮ সনের ২০ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লোক বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, কবি ডক্টর আশরাফ সিদ্দিকী, বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট গীতিকার, সাংবাদিক জীবন চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ইউসুফ এবং আবৃত্তি প্রশিক্ষক মীর বরকত।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে মীর বরকত প্রমিত উচ্চারণে বক্তৃতা দিয়ে উপস্থিত দর্শক শ্রোতাদের বিমোহিত করেছিলেন-সেদিন। সেই থেকে তাঁর ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব আজ অবধি একটুও ঘাটতি পড়েনি।

মীর বরকত জন্মগ্রহণ করেন সংস্কৃতি সমৃদ্ধ ময়মনসিংহ জেলায়। তার পুরো নাম মীর বরকতে রহমান। তার বাবা মীর মসুদার রহমান একজন শিক্ষিত সমাজ দরদী মানুষ এবং মা রশিদা বেগম। মীর বরকত পারিবারিক জীবনেও একজন সফল মানুষ। তাঁর স্ত্রী শামীমা আখতার বেগম একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা। তাঁরা তিন সন্তানের জনক-জননী। পুত্র মীর শরীয়তে রহমান একাদশ শ্রেণীর ছাত্র। সে ছায়ানট সঙ্গীত বিদ্যায়তনের লোকসঙ্গীত বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। কন্যা শ্রেয়সী রহমান ভিকারুন নেছা স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। সে ছায়ানট বিদ্যায়তনের শিশু প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। কনিষ্ঠা কন্যা অচিয়া রহমান একই স্কুলে প্রথম শ্রেণীতে পড়ছে। তিন সন্তানই আবৃত্তি ও সঙ্গীতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে পুরস্কৃত হয়েছে এবং পদক লাভ করেছে। মীর শরীয়তে রহমান ও শ্রেয়সী রহমান শিশুতীর্থ হতে আবৃত্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণও লাভ করেছে।

Print Friendly