ঈদ সংখ্যা : কবিতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাহিত্য বাজার

চামচাগিরি

তপংকর চক্রবর্তী

মাঝ রাতে উঠে আলোটা জ্বালিয়া
সাজিয়ে নেবেন ভাতের থালিয়া
আলাদা বাটিতে মাছের কালিয়া
লাগে যতটুকু থালায় ঢালিয়া
খুশী মনে খান আর গেয়ে গান
মহাসুখী মাছ পুকুরে পালিয়া
আমাদের নেতা সুজন মালিয়া
ভর্তা খাবেন মরিচ টালিয়া
খাওয়া শেষ হলে মুখে দিয়ে পান
তৃপ্তির সুরে স্মিত হাসিমুখে
বলেন, উসকো খা লিয়া, খা লিয়া
অমনি সকলে দুই হাত তুলে
বাজায় তালিয়া, তালিয়া তালিয়া
ফুল ভালবেসে গোলাপ ডালিয়া
কূটবুদ্ধির চালটা চালিয়া
কারো ভেঙে হাত, চোখটা গালিয়া
বম্ বম্ করে বগল বাজান
চামচারা দেন তালিয়া তালিয়া।

ভালই আছি
আফসানা ইসলাম বর্ণা

সেলফোনের বাটন চেপে বলতে হয় “ভাল আছি”
ভাল থাকার আশায় আজও আমরা হলাম কানামাছি,
সুখের খোঁজে মাথা গুজি আমার মায়ের শান্ত কোলে,
বাবার চোখের স্বপ্নগুলো ভিজিয়ে রাখি অশ্রুজলে।
ভাইয়ের প্রিয় ক্রিকেট বলটা আগলে রাখি দু হাত দিয়ে,
বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে, কষ্ট যেন দিক উড়িয়ে!
বন্ধুহারা বান্ধবদের হঠাৎ যদি পাই দেখা-
মিষ্টি হেসে বলতে হয়, হচ্ছেই তো ভাল থাকা!
সাধের পুতুল হারিয়ে গেলে মনকে বলি “যাক না দূরে”
নাই বা হোক দালানবাড়ি ভালই আছি আপন নীড়ে।
ভাল থাকা চোখের কোণে করে শুধু নাচানাচি
দুবেলা যার ভাত জোটে না তাদের থেকে বেশ তো আছি!

 

একটি ছড়া:

বানর থেকে নর
আবিদ আনোয়ার

চিড়িয়াখানায় একটি বানর বলছে ডেকে আরেকটিকে:
বাঁদরমিটা একটু রেখে শুনবি যদি আয় এদিকে:

কাপড়-পরা যেই জীবেরা সঙ্গে নিয়ে ছানাপোনা
বদ্ধ খাঁচার শিকের পাশে নিত্য করে আনাগোনা
ওরাও নাকি বানর ছিলো নিজেই বলে গর্ব করে;
‘বা’টা কেবল বাদ পড়েছে বদলে গেছে এখন ‘নরে’!

এর মানে কী বুঝলি কিছু? তোর তো মাথায় গোবর ভারি:
‘বা’ এর মানে লেজুড় তবে লিখলো না তা ডিকশনারি!
এই জীবেদের লেজুড় দেখে অবাক হতো হনুমানে!
প্রমাণ আছে ভুরিভুরি বলছি না তা অনুমানে।

একটা বিষয় বিতর্কিত: লেজ খসেছে এক্কেবারে?
অনেক দামী পোশাক পরে কেউ এখনও লেজুড় নাড়ে!

 

ধর্মজাল
অপূর্ব গৌতম
——————————
অসহ্য গরমেও বিভেদ হয় নারী পুরুষ
ছোট্ট ছেলেটি চাইলেই উদাম শরীরে
ঘুরে বেড়াতে পারে এপাড়া ওপাড়া
বাড়ির বাগানের কোন এক কোণে

মা-বোন-বৌদির সামাজিক অবরোধ
আলো-বাতাসহীন বদ্ধ ঘরের জানালা দিয়ে
যতদূর চোখ যায়
মনোতৃপ্তিতে শীতল হয় হৃদয়
কষ্টে আমার রক্ত প্রবাহ বাড়ে
যাতনা বাড়ে দেহের প্রতিটি কলায়
ধর্মজাল : ধ্যানে ধ্যানে ঢুকে পড়ে
উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিম কোণে

সোনালী অপেরার সেই যাত্রামঞ্চে
ঝুমুর ঝুমুর নাচের তালে
গেঞ্জি নাড়িয়ে আহা ! কি নৃত্য
দখিনা বাতাসের হালকা আমাজে
নির্ঘুম রাত পরম আনন্দে কাটিয়ে
ভোর রাতে ঠিক আম গাছের তলায়
বসার বেঞ্চিতে এক দীর্ঘ ঘুম
গ্রীস্মের সব শান্তি যেন শুধুই আমার

ঘাম ভেজা শরীরে, গরমে সিদ্ধ আমার মা
কেমন করে টেনে আনি বাইরে
লাল বইয়ের অদৃশ্য হুকুম, লাল চোখে সমাজ
গ্রীষ্মের সব তাপদাহ আমার মাকে জড়িয়ে রাখে
বিকেলের ঝড়ে ঘরে তুলে বাইরের সব

গ্রীষ্মের ছুটিতে আমি পাখা নেড়ে নেড়ে
মায়ের শরীরের ঘাম শুকাবো …

 

বিশ্বকাপ
……….শুভ জিত দত্ত
উন্মাদোনায় সেরা সবার
জয় করে মনে
জাদুকারী ছোঁয়াতে
বল যায় গোলে
গ্যালারী আওয়াজে
মাঠ যায় ভরে
সব কাজ ফেলে
চল যায় মিছিলে
পাতাকা উড়িয়ে
দিলাম আকাশে
প্রত্যাশা পূরণে হবে
জানি মাঠেতে
এই নিয়ে মাতামাতি
চলছে বিশ্বকাপ
চায়ের দোকানে চলছে
বিতর্কের ফুলঝুরি
নানা রং নানা পোশাখে
চলছে সমর্থন
কাপ টা কে পাবে
এই নিয়ে মাঝে
মাঝে চলে হাতাহাতি
তবু অধরা রয়ে
যায় সোনালী সে কাপ

 

নিষেধ
khaখাদিজাতুল কুবরা

কিশোরীর হাতে ধরা রাঙা খেলনা…
ওষুধের গন্ধভরা ঘরে এসে পড়ে,
কাঁপা হাতে তুলে নেয়, চেয়ে চেয়ে দেখে- কোনদিন হলনা খেলা
মাটির পুতুল তেমনই আছে।
মা বলেছিল- বিকেল হলে খেল
দিন যায় রাত যায়,
কখন বিকেল গেল ?
তুমিতো বলনি, শুধু নিষেধ করেছ- এখন না।

– ১/৫/১৮

 

 

ঈশ্বরে আলাপ
আরিফ আহমেদ

ঈশ্বর : কেন এই নাস্তিক্য, কিসে বল সংশয় এতো। তোমরা কি নিশ্চিত জানো

জান্নাত, জাহান্নম বলে কিছু নেই, হাশরের ময়দানে হবেনা জড়ো?

তাহলে বলো, মৃত্যুকে কি আজো কেউ ঠেকাতে পারো?

আমি : সালাম ঈশ্বর সালাম।
পড়ছিলাম আপনারই কালাম,
সংশয় কিছু এলো যেখানে,
ঠেকাতে না পারলেও
মৃত্যুকে পিছিয়েতো দিয়েছি এখানে।
কলেরা, মহামারী নেইতো এখন,
মরেনা কেউ আর যক্ষ্ম রোগে!

ঈশ্বর : মূর্খ কোথাকার।
ওটা যে আমারই দয়া, আমারই দান কতিপয় প্রতিভাবাণ।
খুলে দিয়ে জ্ঞান দ্বার করেছি প্রতিকার।
তা বলে ভেবোনা কমেছে মৃত্যু হার
আগে যা মরতো কলেরা যক্ষে, এখনো তাই মরে পক্ষাগ্রস্তে।

সড়কের ফাঁদ, ভেজালের স্বাদ, ডিজিটালের কাঁধে চড়ে

ক্যানসার এইডস আরো কত কি এসেছে তোমার ঘরে।

জন্মিবে যত, মরিবে ততো এটাই সরল হিসেব।

আমি : কালাম পড়ে আপনার তরে করি যে নিবেদন,

এসবই যে ইচ্ছে আপনার রয়েছে লিখন।।

আপনি চাইছেন বলেই কি হচ্ছে এসব কিছু,

তবে কেন আর আমাদের দোষ খুঁজছেন পিছু পিছু?

ঈশ্বর : এখানেই যত ভুল বোঝা আর গণ্ডগোল ততো,
তোমাদের কাছে রয়েছে শুধু আদমেরে দেয়া জ্ঞানবৃক্ষ
যুগে যুগে আমি সতর্কবাণী পাঠিয়েছি কত শত
উপেক্ষার ছলে গিয়েছো ভুলে আমার নির্দেশগুলো।
এখন যা ঘটছে, ঘটবে ভবিষ্যতে, সবই তোমাদের লোভ আর ভুল পদক্ষেপে।

আমি : তাহলে বলুন এই যে মানুষ মৃত্যুকে দিচ্ছে পিছিয়ে?

শান্ত ঈশ্বর আরো শান্তময় স্বরে বলিলেন- বৎস! থামো, তুমি এতো মূর্খ কেন?

কোরআন খানি আমার পড় বুঝে বারবার। অসুস্থতা পিছাতে পার
মৃত্যু ঠেকানোর নেই কোনো কারবার।
নির্দিষ্ট দিনক্ষণ অবশ্য পাবে পৃথিবীর প্রতিটি বস্তু ও প্রাণ।
টাকার জোরে কেউ কেউ ক’টাদিন সুস্থতা কেনে শুধু,
অবৈধ টাকার
হারামীপনার হিসেবটা এতে কিছুটা হয় এলোমেলো।
তা না হলে তার ধুঁকে ধুঁকেই পৌঁছে যেতো মৃত্যু প্রহর।

আমি : ক্ষমা করুন হে ঈশ্বর, অবৈধ উপার্জন কিম্বা কোনো পাপাচার

নেইতো আমার ঘরে, তবে কেন এতো কষ্ট হাহাকার প্রতিদিন প্রতিমা গড়ে?

হাসিলেন ঈশ্বর ব্যঙ্গ্ হাসি
কহিলেন – রোগব্যাধি মহামারী
কারো জন্য পরীক্ষা আর কারো নিজ কর্মবিধি।।।।
মনে রেখ বৎসে
যার যার বোঝা শুধু তাকেই দেব আমি
অন্যকে কেন দেব অন্যের শাস্তি।।।

চলে গেলেন ঈশ্বর
আমি নচ্ছার করি চিৎকার
ভেঙ্গে যায় ঘুম
শয়নে বসিয়া ভাবি
সবই তবে আমার কর্মগুন।।।

Print Friendly