ঈদ সংখ্যার কবিতা (ছয়জনের কবিতা)

সাহিত্য বাজার

ঈদ সংখ্যার সাহিত্য বাজার ম্যাগাজিন প্রকাশ হচ্ছে না। তাই কবিতাগুলো এখানে দেখুন।

04

লুৎফর রহমান রিটন-এর ছড়া মেসির জন্যে শোকগাঁথাব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনা?
জ্বীনা জনাব জ্বীনা জ্বীনা
জার্মানি ফেভারিট ছিলো
বিশ্বকাপটা ওরাই নিলো!
ছন্দিত ফুটবলের প্রতি
পপাতটা ছিলো অতি।
এবার বিশ্বকাপের খেলায়
প্রিয় খেলোয়াড়ের বেলায়
আমার কিন্তু মেসি প্রিয়,
তাঁর হাসিটাও বেশি প্রিয় ।
গোল্ডেন বল পাবার পরে
মেসির চোখে অশ্রু ঝরে!
প্রিয় মেসি কান্না করে
সহানুভূতি মেসির তরে…
বিশ্বকাপটা স্মৃতি ঘেরা
অতুল তুমি তুমিই সেরা—
এই ধ্বনিতেই সবাই মাতে
স্বর্ণালি বল তোমার হাতে।
মেসির পায়ে জাদুর ভাষা
মেসির জন্যে ভালোবাসা…
১৩ জুলাই ২০১৪

022

সুজাতা ঘোষের কবিতা
নীল ফুলবিদ্যুৎ চমকে গেল আমার সমস্ত শরীরে
দেখ, এখনও কাঁপছি আমি থর থর করে।
তোমার কঠিন বাহু তোমারই অজান্তে ছুঁয়ে গেল আমায়।
হয়তো ব্যাস্ত মন ছিল হিসাব মেলানোর তাগিদে,
কেন এমন হয় বলতো?
পাহাড় আর জঙ্গলের বুনো গন্ধে নেশা ধরে আছে
আমার সমস্ত শরীরে।
নীল হয়ে উঠছি ধীরে ধীরে, ফুঁসছি ছোবল দেব বলে
একবার দেখ আমায়।
আমার ফাঁপরের মত ওঠানামা করা বুক
তোমায় খুঁজছে বিষ দান করার অপোয়।
আর এসোনা কাছে আমার, এত কাছে এসোনা
আস্তে আস্তে খোলস খুলছে আমার।
ঝর্নার ধারের তামাটে পাহাড়ের গা ঘেঁষে নীচে নেমে আসা
লতাগুলো হাওয়ায় দুলছে।
একাকীত্বকে সঙ্গী করে জড়িয়ে ধরে নীল হচ্ছে …………… নীল হচ্ছে।
পুরুষের সাদা রঙ ওর রাতের পছন্দের।
সরু সুতোর মত রাস্তা ধরে এগিয়ে যাচ্ছি ঘন আরও ঘন অরন্যে
অনেকটা নীচ থেকে একটা অদ্ভুত অনুভূতি কেঁপে কেঁপে ওঠে
তোমার কঠিন শক্তি পারে তাকে থামাতে।
আমি অপো করে আছি ওই তামাটে পাহাড়ের চুড়ার দিকে চেয়ে।
ওখানেই কি সূর্যের বাস?
আঃ, বড্ড উত্তাপ, ঝর্নার ধার দিয়ে চল
শান্ত কর আমায়।
স্নিগ্ধ আমি তোমারই অপোয় পথ চেয়ে দাঁড়িয়ে
দেখ, আজ সাজিয়েছি নিজেকে জংলী নীল ফুল দিয়ে।
এসো, উঠে এসো আমার সোনালী রঙা রূপকে বিষাক্ত নীলে পরিবর্তিত করতে।
দেখ, এখনো কাঁপছি আমি থর থর করে।।নীল ফুল
ডঃ সুজাতা ঘোষ
বিদ্যুৎ চমকে গেল আমার সমস্ত শরীরে
দেখ, এখনও কাঁপছি আমি থর থর করে।
তোমার কঠিন বাহু তোমারই অজান্তে ছুঁয়ে গেল আমায়।
হয়তো ব্যাস্ত মন ছিল হিসাব মেলানোর তাগিদে,
কেন এমন হয় বলতো?
পাহাড় আর জঙ্গলের বুনো গন্ধে নেশা ধরে আছে
আমার সমস্ত শরীরে।
নীল হয়ে উঠছি ধীরে ধীরে, ফুঁসছি ছোবল দেব বলে
একবার দেখ আমায়।
আমার ফাঁপরের মত ওঠানামা করা বুক
তোমায় খুঁজছে বিষ দান করার অপোয়।
আর এসোনা কাছে আমার, এত কাছে এসোনা
আস্তে আস্তে খোলস খুলছে আমার।
ঝর্নার ধারের তামাটে পাহাড়ের গা ঘেঁষে নীচে নেমে আসা
লতাগুলো হাওয়ায় দুলছে।
একাকীত্বকে সঙ্গী করে জড়িয়ে ধরে নীল হচ্ছে …………… নীল হচ্ছে।
পুরুষের সাদা রঙ ওর রাতের পছন্দের।
সরু সুতোর মত রাস্তা ধরে এগিয়ে যাচ্ছি ঘন আরও ঘন অরন্যে
অনেকটা নীচ থেকে একটা অদ্ভুত অনুভূতি কেঁপে কেঁপে ওঠে
তোমার কঠিন শক্তি পারে তাকে থামাতে।
আমি অপো করে আছি ওই তামাটে পাহাড়ের চুড়ার দিকে চেয়ে।
ওখানেই কি সূর্যের বাস?
আঃ, বড্ড উত্তাপ, ঝর্নার ধার দিয়ে চল
শান্ত কর আমায়।
স্নিগ্ধ আমি তোমারই অপোয় পথ চেয়ে দাঁড়িয়ে
দেখ, আজ সাজিয়েছি নিজেকে জংলী নীল ফুল দিয়ে।
এসো, উঠে এসো আমার সোনালী রঙা রূপকে বিষাক্ত নীলে পরিবর্তিত করতে।
দেখ, এখনো কাঁপছি আমি থর থর করে।।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Kongko

কবিরুল ইসলাম কঙ্ক (পশ্চিমবঙ্গ) এর ছড়া
নচ্ছড়াআর যাবি না স্বপ্নদেশে সপ্তসাগর পার
যতই আসো চন্দ্রমামা টি দেব না আর ।
বাপুরাম সাপুড়ে যতই বাজাও বাঁশি
তওবা তামার ফাঁদে আর কখনো আসি ।
আতাগাছে তোতাপাখি ডালিমগাছে মধু
লঙ্কা মানে রাবণ ডেরা বৃথা ভোট শুধু ।
হাট্টিমাটিম টিম — তারা গদিতে পাড়ে ডিম
আমজনতা! পোকায় খাওয়া বেগুনগাছে বাতিল শিম ।
দুই
।। দৃশ্যপট ।।
অস্তিত্বের চোয়া ঢেকুর
তেমন মুগুর যেমন কুকুর
পিঠে খেলে পেটে সয়
বেল্লেপনা জগতময় ।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

omr kaysar

ওমর কায়সার এর কবিতা

আকাশ বুনন
একটি ম্যাচের বাক্সে মস্ত আকাশ বুনে ভাঁজ করে রেখেছি বালক,
তোমাকে শেখাবো তার নিখুঁত বুনন।
সূক্ষ্ম মহাজাগতিক তন্তু দিয়ে
ছায়াপথ থেকে বেছে বেছে কী ক’রে নত্র বসাতে হয়,
সপ্তর্ষির এক বিন্দু থেকে আরেক বিন্দুতে রেখা টেনে
কীভাবে বানিয়ে নেবে মসলিন আকাশ
সবটুকু জেনে যাবে সম স্বভাবে।
তার আগে বুড়িগঙ্গার তীর থেকে
এনে দাও আমার আঙুল–
রক্তাক্ত নিখোঁজ মূক বিজিত আঙুল।

চেয়ারের গান
স্বরমগুলের মতো সাজিয়ে রেখেছো সাত সাতটি চেয়ার
অথচ মানুষ আছে আটজন
একজন নিশ্চিত ঝরে যাবে জেনেও মানুষ চেয়ার-সঙ্গীত শোনে
আর বৃত্তাকারে ঘুরতে থাকে সাতটি চেয়ারের চারপাশে আটজন দখলমত্ত মানুষ
এভাবে বারবার একেকটি চেয়ার উঠে যাবে আর এক একজন মানুষ ঝরে যাবে।

 

 

paru

এখনো তোমার কাছে পত্র লিখি
আফরোজা হীরা (র্পাবতী পারু)এখনো মাঝে মাঝে তোমার কাছে পত্র লিখি
আগের মতন প্রতি রাতে আর লেখা হয়ে ওঠেনা,
কেননা, কালির যে বড় অভাব।
মাঝে মাঝে কাজলের কাছে হাত পাতি, কখনো বা-
অমাবস্যার কাছে।
আবার কালের কাছে কালি চাইতে বন্ধক রাখি
তোমার দেওয়া নীলকন্ঠ বিষ।
কালের গহীন গহব্বর থেকে হাতড়ে হাতড়ে খুঁজে আনি-
এক একটা শব্দ, সাজাই কথার পর কথাৃ
বৃষ্টি নামাই ডাইরির পাতায়, ভেজাই তোমায়
মাঝে মাঝে মুচকি হেসে উড়ে এসে জুড়ে বসে রংধনু।
স্মৃতির দরোজার পাল্লা দুটো উদোম রাখি
সেখান দিয়ে কৈশর এসে উঁকি দেয় চুপিসারে
তোমায় নিয়ে নতুন করে হারাই-
ছোট্টবেলার পুতুল খেলার বাসর ঘরে।
এখনো মাঝে মাঝে তোমার কাছে পত্র লিখি
তবে ঠিকানার অভাবে সেগুলো কখনো পোষ্ট করা হয় না।

IMG0028A

আরিফ আহমেদ এর ঈদের কবিতা
স্বাগতম হে ঈদুল ফিতরস্নিগ্ধতা সাগরেের; আকাশের বিশালতায়
যায়নি মাপা কখনো তার মন।
চাঁদ, তারা আর সূর্যের উপমা
তার তুলনায় খুবই কম।
প্রকৃতির যত উদারতা আর রূপলাবণ্য
দু’চোখের মুগ্ধতা সব তারই জন্য
অনাদিকালের অপেক্ষায়…
পৃথিবীর তাবৎ ধনরাশি আর হীরে জহরত
লুটায়ে তার পায়…
জানি, কোনো কিছুতেই পাব না আমি
তোমার কোনো কুল,
তবু যে হৃদয় তোমার জন্য ব্যাকুল !
বিদায় হে মাহে রমজান, স্বাগতম হে ঈদুল ফিতর।

Print Friendly