আহ! কি দারুন : টিকফা চুক্তি ও আমাদের রাজনীতি

সদানন্দ সরকার

images 5অবশেষে সোমবার

হয়ে গেল ছাড়খাড়

বাণিজ্য আমার।

আমেরিকার সাথে-টিকফা চুক্তিতে

সইটা হয়ে গেল কাল।

বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদের আর

মার্কিনী বাণিজ্য প্রতিনিধি ওয়েন্ডি কাটলার

বেলা ১১টায়-করেছেন সাক্ষর যে খাতায় –

সূধীজন বলেছেন -এ কথা

এ চুক্তি ; চুক্তিতো নয়, এ যে সর্বনাশা।

টিকফা নিয়ে নাই কথা প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বা জোটের

তবে বামদলে আর অর্থনীতিবিদসহ রাশেদ খান মেনন জানান প্রতিক্রিয়া তাদের।

এ চুক্তি জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থি বলেন অনেকে – আনু মুহাম্মদ অর্থনীতিবিদ আরো বলেন-

55আনু মুহাম্মদ |

যুক্তরাষ্ট্রের যে ১০টি দেশের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য, সেগুলো হলো যথাক্রমে কানাডা, চীন, মেক্সিকো, জাপান, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, সৌদি আরব ও ফ্রান্স। তালিকায় ভারত ত্রয়োদশ। ভেনেজুয়েলা ও ইতালি এর পরে। এদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের টিফা চুক্তি আছে শুধু সৌদি আরবের সঙ্গে। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত হয়েছে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি।

আফ্রিকায় টিফা চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর অগ্রগণ্য নাইজেরিয়া। ২০০০ সালে তারা টিফা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তাদের অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য পাথেয় হতে পারে। এ ছাড়া আছে ঘানা, অ্যাঙ্গোলা, রুয়ান্ডা। মধ্যপ্রাচ্যে বাহরাইন, মিসর, কুয়েত, ওমান, সৌদি আরব। এর বাইরে দক্ষিণ এশিয়ায় আছে আফগানিস্তান, নেপাল, পাকিস্তান, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা। দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য ভারতের সঙ্গে, তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো টিফা বা টিকফা চুক্তি নেই। পাকিস্তানের সঙ্গে আছে এবং সেখানে নিয়মিত মার্কিন ড্রোন বোমা পড়ছে। এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য চীন ও জাপানের সঙ্গে, তাদের সঙ্গেও এই ধরনের চুক্তি নেই। সুতরাং বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য এই চুক্তি দরকার—এই যুক্তি ধোপে টেকে না।

আনু মুহাম্মদ আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যের পরিমাণ বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান ৫৯তম। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে আমদানির পরিমাণ রপ্তানির তুলনায় প্রায় ১০ ভাগের ১ ভাগ, মাত্র ৫০ কোটি ডলার। রপ্তানি ৪৯০ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয় সুতা, কাপড়, যন্ত্রপাতি, স্টিল, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, কিছু গমসহ খাদ্যশস্য। আর বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যায় প্রধানত তৈরি পোশাক। এর বাইরে সিরামিকসহ কিছু সামগ্রী। আমদানি পণ্যগুলোর বেশির ভাগ গার্মেন্টস রপ্তানির সঙ্গে সম্পর্কিত। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের অস্ত্র ছাড়া আমদানি বাড়ানোর সুযোগ খুবই কম। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ অনেক। তৈরি পোশাক রপ্তানিই আরও অনেক বাড়ানো সম্ভব। এ ছাড়া খাদ্যশস্যসহ আরও অনেক পণ্য রপ্তানি সম্ভব। কিন্তু তার পথে বাধা কী? বাধা যুক্তরাষ্ট্র নিজেই। (বিস্তারিত পড়ুন : ২৪ নভেম্বর ২০১৩ দৈনিক প্রথম আলো)

এদিকে এ নিয়ে বামেরা দেখালেন সত্যিকারের দেশপ্রেম

যাদের কাছে (বিএনপি-আলীগ জোট-মহাজোট) প্রতিবাদ আশা করে জাতি তারা খেলে নির্বাচণী গেম।

‘জনগণকে কিছু না জানিয়ে টিকফা চুক্তি করছে সরকার’

এ কথা বলেছে সিপিবি আর বাসদ গত বুধবার।

দেশ রক্ষার স্বার্থে – এই চুক্তির বিরুদ্ধে -আন্দোলনে নামার ছিল তাদের আহ্বান

ছাড়া দিলনা কেউ

সবাই করে ঘেউ ঘেউ

কাজের বেলা সব ঠন ঠনা ঠন।

তবে হ্যাঁ

বাপকা বেটা বটে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন।

সরকারে থেকেও সে তীব্র প্রতিবাদে করেছেন রাস্তা গরম।

11বলেছেন  মেনন, টিকফা চুক্তির ফলে বাংলাদেশের বাণিজ্য খাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধীনস্ত হয়ে পড়বে।  সোমবার ২৫ নভেম্বর এক বিবৃতিতে দলটির পলিটব্যুরোর পক্ষ থেকে সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক এ কথা বলেছেন। তাঁরা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কিছু আমলা, উপদেষ্টা ও বাণিজ্যমন্ত্রীর বিশেষ আগ্রহের ফলে এই খসড়া চুক্তির স্বাক্ষরের বিষয়টি অনুমোদিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এত দিন জিএসপি সুবিধার প্রশ্নটি সামনে নিয়ে এসেছে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কখনো বাংলাদেশের মূল রপ্তানিপণ্য পোশাকশিল্পকে জিএসপি সুবিধা দেয়নি এবং এই খাতে জিএসপি সুবিধা দেওয়ার প্রশ্নকে বিভিন্ন রকম শর্তের অধীন করেছে। অন্য খাতে যে জিএসপি সুবিধা এত দিন পাওয়া গেছে, তা খুবই নগণ্য। অথচ এ ধরনের সুবিধার কথা বলে টিকফা চুক্তি স্বাক্ষরের যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে তাতে বাংলাদেশের বাণিজ্য খাত মার্কিনের অধীনস্থ হয়ে পড়বে। তাঁরা বলেন, টিকফা চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা বাতিল করে দিয়েছে। এর থেকেই বোঝা যায় যে টিকফা চুক্তির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কী অর্জন করবে।
টিকফা স্বাক্ষরের উদ্যোগকে জাতীয় স্বার্থবিরোধী আখ্যায়িত করে এ চুক্তি স্বাক্ষরের বিরুদ্ধে ২৭ নভেম্বর ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ ও সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে ওয়ার্কার্স পার্টি।

 

 

 

 

Print Friendly