আরিফ আহমেদ এর কিছু কবিতা

আরিফ আহমেদ

ok picও ভাই মুসলমান

সকাল থেকে সন্ধ্যা
অভুক্ত থাকা আর বিপদে দু’একবার
স্রষ্টাকে ডাকা-ই যদি রোজা থাকা হয়
তবে বাপু আমি আজন্ম রোজদার।
বিগত দু’টি বছর পেটপুড়ে
একবেলা জোটেনি আহার
তাই প্রতিদিন
প্রতি পদে পদে স্রষ্টাকে অবিরাম ডেকে যাই।

তোমার-ই প্রতিবেশী আমিি
ঐ যে, দালান ঘরটা দেখছো
ওটার পিছনের ঝোপড় পট্টিটায়
হাজার টাকার মাসোহারা দিয়ে
জুটেছে একটু আশ্রয়।

অচল মানুষ তাই
শরীরে শক্তি নাই
ভিক্ষা করতে তাও বিবেকে বাধে ভাই…

গত পাঁচটা বছর নতুন কাপড়
দেখেনি বউটা আমার
কতবার নিলামে দিয়েছি
একখানা ছিড়া কাপড়ে ঢাকা সম্ভ্রম তার।
ছেলেটা রিকশা চালায় আর
মেয়েটা প্রতিদিন চাকুরীর খোঁজে নিজেকে বেঁচে বউবাজার।

হিন্দু, বৌদ্ধ নাকি খ্রীস্টান
আমি কে? জানা নেই জাত পাত!
জন্মসূত্রে এ দেশেই করছি বাস।
শুধু জানি প্রতিদিন আমিও আছি উপবাস।

ও ভাই আমার গর্বিত মুসলমান
খুলে দেখ তোমার পবিত্র কোরআন …
প্রতিবেশী কেউ অভুক্ত থাকলে
থাকে কি তোমার কোনো ধর্ম, কোনো ঈমান?

বন্ধু
বন্ধু, কোনো এক অবসরে যদি পারো একবার
ভুলে সব অতীত কথন
একটু বসে পাশে; স্থির মন
কিছুটা সময় কর অবলোকন ।

চোখে রেখে চোখ, ভুলে সব হতাশার
যোগ বিয়োগ; বল শুধু একবার তুমি আছ কেমন?

বড় ব্যস্ত?
কাজ আর কাজ?

কাজ সেতো জীবীকার জন্য
জীবনের প্রয়োজন জীবন।

স্বাদ
জীবনের যেটুকু বাকী
যা কিছু ইচ্ছে আহলাদ
সবই আজ তোমাকে দিলাম।
তুমি তারে যতনে রেখ
বুকের পাঁজর ভেঙ্গনা আর
ছেড়ে অযথা দীর্ঘশ্বাস।

শুদ্ধতা
যুদ্ধ করেছি শুদ্ধ হতে
মুক্ত স্বদেশে
এখনো অশুদ্ধ জাতি
পারিনি বাঙ্গালী হতে।

Print Friendly

About the author

ডিসেম্বর ৭১! কৃত্তনখোলার জলে সাঁতার কেটে বেড়ে ওঠা জীবন। ইছামতির তীরঘেষা ভালবাসা ছুঁয়ে যায় গঙ্গার আহ্বানে। সেই টানে কলকাতার বিরাটিতে তিনটি বছর। এদিকে পিতা প্রয়াত আলাউদ্দিন আহমেদ-এর উৎকণ্ঠা আর মা জিন্নাত আরা বেগম-এর চোখের জল, গঙ্গার সম্মোহনী কাটিয়ে তাই ফিরে আসা ঘরে। কিন্তু কৈশরী প্রেম আবার তাড়া করে, তের বছর বয়সে তের বার হারিয়ে যাওয়ার রেকর্ডে যেন বিদ্রোহী কবি নজরুলের অনুসরণ। জীবনানন্দ আর সুকান্তে প্রভাবিত যৌবন আটকে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পদার্পন মাত্রই। এখানে আধুনিক হবার চেষ্টায় বড় তারাতারি বদলে যায় জীবন। প্রতিবাদে দেবী আর নিগার নামের দুটি কাব্য সংকলন প্রশ্ন তোলে বিবেকবানের মনে। তার কবিতায়, উচ্চারণ শুদ্ধতা আর কবিত্বের আধুনিকায়নের দাবী তুলে তুলে নেন দীক্ষার ভার প্রয়াত নরেণ বিশ্বাস স্যার। স্যারের পরামর্শে প্রথম আলাপ কবি আসাদ চৌধুরী, মুহাম্মদ নুরুল হুদা এবং তৎকালিন ভাষাতত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজীব হুমায়ুন ডেকে পাঠান তাকে। অভিনেতা রাজনীতিবিদ আসাদুজ্জামান নূর, সাংকৃতজন আলী যাকের আর সারা যাকের-এর উৎসাহ উদ্দিপনায় শুরু হয় নতুন পথ চলা। ঢাকা সুবচন, থিয়েটার ইউনিট হয়ে মাযহারুল হক পিন্টুর সাথে নাট্যাভিনয় ইউনিভার্সেল থিয়েটারে। শংকর শাওজাল হাত ধরে শিখান মঞ্চনাটবের রিপোটিংটা। তারই সূত্র ধরে তৈরি হয় দৈনিক ভোরের কাগজের প্রথম মঞ্চপাতা। একইসমেয় দর্শন চাষা সরদার ফজলুল করিম- হাত ধরে নিযে চলেন জীবনদত্তের পাঠশালায়। বলেন- মানুষ হও দাদু ভাই, প্রকৃত মানুষ। সরদার ফজলুল করিমের এ উক্তি ছুঁয়ে যায় হৃদয়। সত্যিকারের মানুষ হবার চেষ্টায় তাই জাতীয় দৈনিক রুপালী, বাংলার বাণী, জনকণ্ঠ, ইত্তেফাক, মুক্তকণ্ঠের প্রদায়ক হয়ে এবং অবশেষে ভোরেরকাগজের প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়ান ৬৫টি জেলায়। ছুটে বেড়ান গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। ২০০২ সালে প্রথম চ্যানেল আই-্র সংবাদ বিভাগে স্থির হন বটে, তবে অস্থির চিত্ত এরপর ঘনবদল বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, আমাদের সময়, মানবজমিন ও দৈনিক যায়যায়দিন হয়ে এখন আবার বেকার। প্রথম আলো ও চ্যানেল আই আর অভিনেত্রী, নির্দেশক সারা যাকের এর প্রশ্রয়ে ও স্নেহ ছায়ায় আজও বিচরণ তার। একইসাথে চলছে সাহিত্য বাজার নামের পত্রিকা সম্পাদনার কাজ।