আরিফ আহমেদ এর কবিতা

আরিফ আহমেদ

012তার কথা মনে পড়ে

তার কথা মনে পড়ে
আঁড়ে আঁড়ে বারে বারে
যত চাই ভুলিবারে
ততো মনে জ্বালা ধরে ।

কোথায় সে, কেমন আছে
কাকে সে ভালোবাসে
জানা নাই কিছুই তার
শুধু জানি মুখখানি
ভাসা ভাসা জেগে আছে
স্মরণে আমার ।

সপ্তক্ষীরের জন্য কবিতা

সাথী হতে চেয়ে তোমার
বাতাস ভারী দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি
খান-খান; ভাঙ্গে হৃদয়ের বাজার
নয়নে তোমার কেমনে পড়ি ?

একাকী সময় ভাবনা বিহ্বল…
সপ্তক্ষীরে দুয়ারে তোমার…
প্রলেপ আঁকি
নিত্য রাতি ।
আত্মসুখে মগ্ন থাকি
তোমার জন্য
ব্যস্ত কথার কাব্য লিখে
আমি ধন্য ।

সপ্তক্ষীরা তোমার জন্য
আজো আমার ব্যাকুলতা যত ।

 

এখানেই ঘুমিয়ে আছেন দাদু আমারঅ

এখানেই ঘুমিয়ে আছেন দাদু আমারঅ

দাদুর স্মরণে ( ১১২ বছর বয়সে চলে গেলেন আমাদের দাদু)

এখানে আমার দাদার কবর
শত বছর আগের স্মৃতি
দুই নয়নে ভিজিয়ে মাটি
দাদিকেও আজ করলাম তাঁর সাথী ।

শুইয়ে দিলাম যতন করে
দাদার পাশে দাদীটারে
দেখা হবে দু’জনার
৫০টি বছর পরে ।

‘দাদুভাই’ বলে আদর করে
ডাকবে না কেউ আর
হাতটি ধরে জড়িয়ে বুকে
আঁচল দিয়ে মুখটি মুছে
নিজের হাতের পিঠা পায়েস
মুখে তুলে খাইয়ে দিতে
রইলো না কেউ আর ।

দাদু তুমি অচল ছিলে
তবুও যে মাথার উপর
বটের ছায়া
ছিলে চিরকাল

দাদু আমার চলে গেল ১১ এপ্রিল ২০১৫
রাত ৮টার শনিবার
মালিবাগ ঢাকা থেকে এ্যম্বুলেন্সে বরিশাল
লাশ এলো সকালে; কবর হলো দুপুর বেলা রবিবার।

মুঠোবার্তা
—————-
মুঠোফোনে পাঠালাম এই মুঠোবার্তা

জাগো বিবেকবান
সত্যবাদী যুবা যারা আছো,
ছাত্র-শিক্ষক নীতিবান
যদি কেউ আজো থাকো…

জাগো দেশবাসী
জাগো ভালো থাকারা প্রত্যাশীরা
নিজ হাতে তুলে নাও এই সত্তা
শাসনভার আর হানাদারের হাতে নয়
চাইনা বিবেকবর্জিত কোনো নেতা

রুখে দাঁড়াও সত্য ন্যায়ের পথিক
হোকনা বিলিন তাতে
তোমার আমার প্রিয়জন
প্রিয় পিতা
জাগো সবাই পেয়ে এই
মুঠোবার্তা।

 

আবারো দেখা হবে

আবারো দেখা হবে…
কথাটি বলে, সেই যে হারালো সুজন
তারপর ! কেটে গেল অনাদিকাল…

তোমার সাথে পুনরায়
যধি দেখা হয় যায়…
যদি চোখের গভীরে
আবারো আটকে থাকে চোখ…

পাশাপাশি হলে যদি আবারো তোমার
গায়ের ঘ্রাণে মত্ত হই; আমি দিশেহারা ?
যদি আবারো সব ভুলে
তোমাকেই ভাবি একান্ত আপন…

এই ভয়ে আমি পালিয়ে বেড়াই
দিনান্তের দিন ।
পৃথিবীটা গোল তা আবারো
প্রমাণ করার আছে কি প্রয়োজন ?

Print Friendly

About the author

ডিসেম্বর ৭১! কৃত্তনখোলার জলে সাঁতার কেটে বেড়ে ওঠা জীবন। ইছামতির তীরঘেষা ভালবাসা ছুঁয়ে যায় গঙ্গার আহ্বানে। সেই টানে কলকাতার বিরাটিতে তিনটি বছর। এদিকে পিতা প্রয়াত আলাউদ্দিন আহমেদ-এর উৎকণ্ঠা আর মা জিন্নাত আরা বেগম-এর চোখের জল, গঙ্গার সম্মোহনী কাটিয়ে তাই ফিরে আসা ঘরে। কিন্তু কৈশরী প্রেম আবার তাড়া করে, তের বছর বয়সে তের বার হারিয়ে যাওয়ার রেকর্ডে যেন বিদ্রোহী কবি নজরুলের অনুসরণ। জীবনানন্দ আর সুকান্তে প্রভাবিত যৌবন আটকে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পদার্পন মাত্রই। এখানে আধুনিক হবার চেষ্টায় বড় তারাতারি বদলে যায় জীবন। প্রতিবাদে দেবী আর নিগার নামের দুটি কাব্য সংকলন প্রশ্ন তোলে বিবেকবানের মনে। তার কবিতায়, উচ্চারণ শুদ্ধতা আর কবিত্বের আধুনিকায়নের দাবী তুলে তুলে নেন দীক্ষার ভার প্রয়াত নরেণ বিশ্বাস স্যার। স্যারের পরামর্শে প্রথম আলাপ কবি আসাদ চৌধুরী, মুহাম্মদ নুরুল হুদা এবং তৎকালিন ভাষাতত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজীব হুমায়ুন ডেকে পাঠান তাকে। অভিনেতা রাজনীতিবিদ আসাদুজ্জামান নূর, সাংকৃতজন আলী যাকের আর সারা যাকের-এর উৎসাহ উদ্দিপনায় শুরু হয় নতুন পথ চলা। ঢাকা সুবচন, থিয়েটার ইউনিট হয়ে মাযহারুল হক পিন্টুর সাথে নাট্যাভিনয় ইউনিভার্সেল থিয়েটারে। শংকর শাওজাল হাত ধরে শিখান মঞ্চনাটবের রিপোটিংটা। তারই সূত্র ধরে তৈরি হয় দৈনিক ভোরের কাগজের প্রথম মঞ্চপাতা। একইসমেয় দর্শন চাষা সরদার ফজলুল করিম- হাত ধরে নিযে চলেন জীবনদত্তের পাঠশালায়। বলেন- মানুষ হও দাদু ভাই, প্রকৃত মানুষ। সরদার ফজলুল করিমের এ উক্তি ছুঁয়ে যায় হৃদয়। সত্যিকারের মানুষ হবার চেষ্টায় তাই জাতীয় দৈনিক রুপালী, বাংলার বাণী, জনকণ্ঠ, ইত্তেফাক, মুক্তকণ্ঠের প্রদায়ক হয়ে এবং অবশেষে ভোরেরকাগজের প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়ান ৬৫টি জেলায়। ছুটে বেড়ান গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। ২০০২ সালে প্রথম চ্যানেল আই-্র সংবাদ বিভাগে স্থির হন বটে, তবে অস্থির চিত্ত এরপর ঘনবদল বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, আমাদের সময়, মানবজমিন ও দৈনিক যায়যায়দিন হয়ে এখন আবার বেকার। প্রথম আলো ও চ্যানেল আই আর অভিনেত্রী, নির্দেশক সারা যাকের এর প্রশ্রয়ে ও স্নেহ ছায়ায় আজও বিচরণ তার। একইসাথে চলছে সাহিত্য বাজার নামের পত্রিকা সম্পাদনার কাজ।