আমারে যে পাগল বলেছে – আমি গেলাম তার দলে

আরিফ আহমেদ

Khaleda-Zia sheikh-hasina-1-sized

আমারে যে পাগল বলেছে : আমি গেলাম তার দলে’ কথাটি কোনো বিখ্যাত লোকের না, একজন অতি সাধারণ আম-জনতার। মীরপুর ৬ নং সেকশনের বি ব্লকের ৪২ বয়সের একজন লোক ইয়াছিন চা দোকানে বসে দোকানদারের সাথে এভাবেই কথা শুরু করলেন। আলাপের ধরনে বোঝা গেল চা দোকানদার ও সে দুজনেই দীর্ঘ দিনের বন্ধু। চা বিক্রেতা প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে ইয়াছিনকে দেখল।যার মানে ঘটনা কি? লোকটি তখন বলছে, আসলে ‘আমি গেলাম’ না বলে, বলা উচিত আমাকে ঠেলে দেয়া হলো তারই দলে। কথাটি বলার কারণ হচ্ছে, ১৯৯৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, শিশু ও পাগল ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়। সেই হিসেবে আমি এতকাল পাগলের দলেই ছিলাম বলা যায়। ৩০ বছর ধরে মীরপুরে আছি, হারুন চেয়ারম্যানের সময় আমি ভোটার হই নাই তবে, তারপর জাতীয় পার্টির আমলে এস এ খালেকের সময় ভোটার হইলাম। তয় ভোট দিলাম না কাউরেই। ৯০ এ প্রথম ভোট দিলাম নৌকায়। এরপর দিলাম ধানের শীষে, এরপর ড.কামাল হোসেন ও মেয়র হানিফরে ভোট দিলাম। কামাল মজুমদার কোনোকালেই আমাগো পছন্দ ছিলনা। আওয়ামী লীগের নৌকার কারণে হেরেও একবার ভোট দিলাম। তয় গত নির্বাচনে কাউরেই ভোট দিই নাই, না ভোট দিয়া আইছিলাম। বিশ্বাস না হইলে ভোটার খাতা পরীক্ষা কইরা দেহেন। আমি ভাবছিলাম এইবার আওয়ামী লীগটারে সাপোর্ট দিমু। কিন্তু এরা আইসাই যা শুরু করল। শেয়ার কেলেংকারী নিয়া যে বেশি কথা কেইলো তারে ভিতরে হান্দাই দিল। গোলাম মাওলা রনি পোলাডার কি হইলো? হেইডারতো অনেক দুর্নাম বাইর হইছে। কোটি টাকা কামাইছে হুনছি। কিন্তু যেইডায় কোটি কোটি টাকা লুটপাট করল, ঋণ খেলাপী, হেই দরবেশরে কেউতো কিছু কইরলোনা। এই যে, ইন্ডিপেন্ডেটের পোলাডা নিজেরে সাংবাদিক জাহির কইরা বক্তৃতা দিল। আরে ব্যাডা তুই ভালো সাংবাদিক হইলেতো এই ঋণখেলাপীরে লইয়া রিপোর্ট বানাইতি। বানাইছোস? তোর তালাশে কি আইজ পর্যন্ত কোনো ঋণ খেলাপীর কথা কইছোস? রনির পিছে যেমন লাগলি, তেমন হগলের পিছে লাইগা বুঝাইতি যে, তুই নিরপেক্ষ। তুইও পাগলের দলে। এরপরই শুরু হইলো ড. ইউনূসরে নিয়া ফাজলামি। আরে মিয়া, হের মত বড় মানুষরে নিয়া কি মশকরা চলে? ইয়াছিন মিয়া এবার পরলেন, মো: নাসিমরে নিয়া। নাসিম ভাই, আওয়ামী লীগের কত বড় নেতা। প্রেসিডিয়াম নেতা। হের মতো মানুষ যহন কইলো, কেয়ামত হইলেও সংবিধান বদলাইবো না, নির্বাচন হেরা করবোই। তহন আর এই আওয়ামী লীগরে কেমনে সাপোর্ট দি। হৈরের পোলা কয় কি? কেয়ামত কি মুখের কথা? আল্লারে লইয়া ফাজলামো? পাছা দিয়া কেয়ামত বাইর হইবো। প্রধানমন্ত্রীর পোলাডা দেশে আইলো ভালো কথা, রাজনীতিতে নামবি, ভালো কথা, আগে সিনিয়র নেতাগো লগে দুদিন চইলা রাজনীতিডা বোঝ। তা না, আইসাই তথ্য জাহির করে। সভা সমাবেশে কি যে আবোল তাবোল কয়, নিজেই যার মানে বোঝেনা। এই দিক দিয়া তারেক জিয়া অনেক সমঝদার আছে। এই যে জয় এত কথা কয়, কই তারেক জিয়াতো একটা উত্তর দেয় না। আমি এহন তারেকরে ভালো কইছি, তো আমারে হেরা কইবো আমি রাজাকার। হেরা কওনের আগে আমি নিজেই নিজেরে রাজাকার ঘোষণা দিলাম। তয় আমার বাপে কিন্তু লালবাগ থানা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিল ৭২ সালে। বাপে মরার আগপর্যন্ত প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাক চাচা আর তোফায়েল চাচা ছাড়া আওয়ামী লীগের কাউরে বিশ্বাস করতো না। আমাগোরেও না কইরা গেছে। দিবু কেমনে? জয় এর চেয়ে তারেকতো অনেক বড় মাপের মানুষ। তাই চিন্তা কইরা দেখলাম এবার আমারে বিএনপিতেই নাম লেখাতে হইবো। এইবার চা দোকানদার মুখ খুললেন, আওয়ামী লীগের অতীত বর্তমান যোগ কইরা দেখ, দেখবি কথা-কামে কোনো মিল নাই। তোরে তো আগেই কইছিলাম বিএনপিতে যা। শোনোছ নাই। ইয়াছিন মিয়া বলল, হরে, ঠিকই কইছোস। এই যে দেখ, এরশাদ স্বৈরাচার, স্বৈরাচার কইরা যারা গলা ফাটাইছে বেশি, হেরাই এরশাদরে দলে টানতে কত নোংরামি না করল। আবার এই জামায়াত শিবিররেতো আওয়ামী লীগই আগে দলে টানছিল। এখন তারা শত্রু। আইজ বিএনপি জামায়াতেরে ছাইড়া দিক, দেখবি কাইলই ্োওয়ামী লীগ জামায়াত শিবির হইয়া যাইবো। ইয়াছিন মিয়া ও চা দোকানদার মোতাহার মিয়ার রাজনৈতিক ভাবনা তর্ক এভাবে চলছে। এটা শুধু মীরপুরে নয়, সারাদেশে আজ আওয়ামী লীগকে নিয়ে যারা ভাবছে তারা বেশিরভাগই তাদের এই দু’মুখো নীতি নিয়ে বেশি চিন্তিত। তাই অনেকের মতেই এখনকার আওয়ামী লীগ স্বৈরাচারী পথে হাঁটছে বলে ধারণা। আর যদি আওয়ামী লীগ সত্যিই এটা করে তবে আগামী ২০ বছরের জন্য এদেশের মানুষ তাদেরকে বহিঃস্কার করবে, এটাও নিশ্চিত। এরশাদের সাথে যেটা ঘটেছে, খুব সম্ভব আওয়ামী লীগের সাথেও সেটাই ঘটতে যাচ্ছে বলে ইতোমধ্যেই সুশীল সমাজ আভাস দিয়েছেন। তাই আওয়ামী লীগের হাতে সাবধান হওয়ার জন্য এখনো যথেষ্ট সময় রয়েছে। তা না হলে তাদের আচরণে অতিষ্ট হয়ে ‘আমারে যে পাগল বলেছে, আমি গেলাম তার দলে’ – আজ কিন্তু এই শ্লোগানে অপেক্ষমান আমাদের সুশীল সমাজও।

Print Friendly

About the author

ডিসেম্বর ৭১! কৃত্তনখোলার জলে সাঁতার কেটে বেড়ে ওঠা জীবন। ইছামতির তীরঘেষা ভালবাসা ছুঁয়ে যায় গঙ্গার আহ্বানে। সেই টানে কলকাতার বিরাটিতে তিনটি বছর। এদিকে পিতা প্রয়াত আলাউদ্দিন আহমেদ-এর উৎকণ্ঠা আর মা জিন্নাত আরা বেগম-এর চোখের জল, গঙ্গার সম্মোহনী কাটিয়ে তাই ফিরে আসা ঘরে। কিন্তু কৈশরী প্রেম আবার তাড়া করে, তের বছর বয়সে তের বার হারিয়ে যাওয়ার রেকর্ডে যেন বিদ্রোহী কবি নজরুলের অনুসরণ। জীবনানন্দ আর সুকান্তে প্রভাবিত যৌবন আটকে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পদার্পন মাত্রই। এখানে আধুনিক হবার চেষ্টায় বড় তারাতারি বদলে যায় জীবন। প্রতিবাদে দেবী আর নিগার নামের দুটি কাব্য সংকলন প্রশ্ন তোলে বিবেকবানের মনে। তার কবিতায়, উচ্চারণ শুদ্ধতা আর কবিত্বের আধুনিকায়নের দাবী তুলে তুলে নেন দীক্ষার ভার প্রয়াত নরেণ বিশ্বাস স্যার। স্যারের পরামর্শে প্রথম আলাপ কবি আসাদ চৌধুরী, মুহাম্মদ নুরুল হুদা এবং তৎকালিন ভাষাতত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজীব হুমায়ুন ডেকে পাঠান তাকে। অভিনেতা রাজনীতিবিদ আসাদুজ্জামান নূর, সাংকৃতজন আলী যাকের আর সারা যাকের-এর উৎসাহ উদ্দিপনায় শুরু হয় নতুন পথ চলা। ঢাকা সুবচন, থিয়েটার ইউনিট হয়ে মাযহারুল হক পিন্টুর সাথে নাট্যাভিনয় ইউনিভার্সেল থিয়েটারে। শংকর শাওজাল হাত ধরে শিখান মঞ্চনাটবের রিপোটিংটা। তারই সূত্র ধরে তৈরি হয় দৈনিক ভোরের কাগজের প্রথম মঞ্চপাতা। একইসমেয় দর্শন চাষা সরদার ফজলুল করিম- হাত ধরে নিযে চলেন জীবনদত্তের পাঠশালায়। বলেন- মানুষ হও দাদু ভাই, প্রকৃত মানুষ। সরদার ফজলুল করিমের এ উক্তি ছুঁয়ে যায় হৃদয়। সত্যিকারের মানুষ হবার চেষ্টায় তাই জাতীয় দৈনিক রুপালী, বাংলার বাণী, জনকণ্ঠ, ইত্তেফাক, মুক্তকণ্ঠের প্রদায়ক হয়ে এবং অবশেষে ভোরেরকাগজের প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়ান ৬৫টি জেলায়। ছুটে বেড়ান গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। ২০০২ সালে প্রথম চ্যানেল আই-্র সংবাদ বিভাগে স্থির হন বটে, তবে অস্থির চিত্ত এরপর ঘনবদল বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, আমাদের সময়, মানবজমিন ও দৈনিক যায়যায়দিন হয়ে এখন আবার বেকার। প্রথম আলো ও চ্যানেল আই আর অভিনেত্রী, নির্দেশক সারা যাকের এর প্রশ্রয়ে ও স্নেহ ছায়ায় আজও বিচরণ তার। একইসাথে চলছে সাহিত্য বাজার নামের পত্রিকা সম্পাদনার কাজ।