আমাদের রাজনীতি: ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি

আরিফ আহমেদ

Hasina‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।’
কিম্বা
নিজেকে যে বড় বলে বড় সে নয়,
লোকে যারে বড় বলে বড় সেই হয়।
ছোট বড় সকলের জানা এই কবিতার পঙ্তিমালা। বিশেষ করে আমাদের শিক্ষিত সুশিল সমাজের কাছে এই পঙ্তির বহু ব্যবহারও কম নয়। অন্তত টেলিভিশন টক শো’তে এটার ব্যবহার অনেকেই করেন যার যার সুবিধা মত। তবে নিজের ক্ষেত্রে কেউ এটার মর্মকথা পালন করেন কিনা তা সন্দেহের তালিকায় আছে ও থাকবে।
বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই পঙ্তিদ্বয় আজ অবশ্যই পূণঃস্মরণীয়। সাথে যুক্ত করতে হবে আরো দুটি বহু ব্যবহৃত প্রবাদ বাক্য — ‘পরের জন্য কুয়ো খুদলে সেই কুয়োয় নিজেকেই পড়তে হয়’ আর ‘সত্য হচ্ছে আগুন। আগুন কখনো চেপে রাখা যায় না’।
কবি কামিনী রায়ের লেখা ঐ পঙ্তিটি কবি তখন কোন প্রেক্ষাপটে কেন লিখেছিলেন তা স্পষ্ট না হলেও আজ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবলোকন মাত্রই কথাটির মর্ম স্পষ্ট হযে ওঠে। আমাদের সরকার ও বিরোধী দলের দ্বী-মুখী নীতি ও আচারণ আমাদের বার বার মনে করিয়ে দেয় উপরের সবগুলো পঙতি ও প্রবাদ বাক্যকে। বিগত ১৯৯১ থেকে তারা পাল্টাপাল্টি ক্ষমতা ভোগ করে আসছে। একই মুদ্রার এপিট আর ওপিট এই দুটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসিন হওয়া মাত্রই ভুলে যাচ্ছে তাদের অতীত কর্মকাণ্ড। পরষ্পরের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ তাদের এতোটাই যে, আজ আর কেউ কারো মুখও দেখতে রাজী না। তাদের এই ঘৃণা ও বিদ্বেষে পুড়ছে আজ ৫৬ হাজার বর্গমাইল। সাধারণ মানুষের আজ ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি দশা।
Begum jiaগত ২৮ মে ২০১৩ রাত ১০টায় সময় টেলিভিশনের সম্পাদকীয়তে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতার আচারণে সঞ্চালক মোরশেদুল ইসলামের বিব্রতকর অবস্থা যারা দেখেছেন, কিম্বা রাত ১টায় চ্যানেল আইতে তৃতীয় মাত্রায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের বক্তব্য যারা শুনেছেন, তারা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন যে দুটি দলের নেতারাই আত্মবড়াইয়ে মশগুল। তারা নিজেদের সবচেয়ে বড় মনে করছেন। তাদের উভয়ের কাছেই দেশের চেয়ে, দেশের মানুষের চেয়ে দল এবং দলের প্রধান শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া-ই হচ্ছেন সবচেয়ে বড়। তাদের বক্তব্যই শেষ কথা।
সরকারে যারা আছেন, তাদের প্রতিটি নেতা নেত্রীর আচারণে ঔদ্ধ্যত্ব অহংকার সীমাহীন। অন্যদিকে বিরোধীপক্ষেরও আচরণেও রয়েছে স্পষ্ট নির্লজ্জতা। যার প্রমাণ তাদের বক্তব্যে। তারেক রহমান ও হাওয়া ভবন প্রশ্নে বিএনপি ধোয়া তুলসি পাতা। অতীতের ভরাডুবি থেকে তাদের মধ্যে কোনো শিক্ষাই আসেনি বরং এটা যেন খুবই স্বাভাবিক বিষয়। আওয়ামী লীগ ১০ বছর দেশ চালাচ্ছে, এখন আগামী ১০ বছর তাদের চালাতে দিতে হবে, এটাই যেন নিয়ম।
ক্ষমতাসীন আওয়ামি লীগতো এই বিষয়ে আরো দু’কদম এগিয়ে। তাদের আচরণ ও কথাবার্তায় এটা স্পষ্ট যে, বিনা নির্বাচনে সরকার হলেও জনগণ আগামী পাঁচ বছরের জন্য তাদেরই অনুমোদন দিয়েছে। টিভি টক শো’তে তাদের এক নেতা তো স্পষ্ট বলেই দিলেন- পারলে আওয়ামি লীগ ও বিএনপিরন বাইরে একটা বিকল্প দল এনে দেখান।
এই যদি অবস্থা হয় তখন এই দেশে আর অযথা নির্বাচন কি প্রয়োজন? কেন কোটি কোটি টাকার অপচয় করে নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর ভাবে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা ? আমরা চুক্তি করে দিলেই তো পারি, যে ২০১৪ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত আওযামী লীগই দেশ চালাবে। এমনিতেই আওযামি লীগ ২০২১ সাল পর্যন্ত উন্নয়ন কর্মসূচি টার্গেট করেই রেখেছে। যেখানে জনমানুষের উন্নয়ন কখনো হবে না, তবে সমর্থকদের কিছুটা হতে পারে। তারউপর তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেইতো রাজাকার বানিয়ে দিচ্ছে। যদিও দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর রায় ঘোষণার পর এখন আঢ়ালে আবডালে তাদেরকেই লোকে জামায়াতে আওয়ামী লীগ বলে ব্যঙ্গ করছে।
এদিক দিয়ে বিএনপি অবশ্য বেশ উদারই বলা যায়, তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তারা জেল- জরিমানা বা নির্বাসন দিতে পারে, কিন্তু কাউকে আওয়ামি লীগ বানিয়ে দেয় না। যাই হোক আমরা যদি বিগত ২৫ বছরের এই প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের গণতন্ত্রের চর্চা দেখি, সেখানে দুর্নীতি ও মিথ্যাচারের চক্রাবৃদ্ধি ছাড়া আর কিছু নেই। পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে সরকারি প্রতিটি স্তরে এর প্রসার ঘটেছে। ২০১৪ সাল এসে পরিস্থিতি এতোটাই ভয়াবহ যে, প্রশাসন নিয়ন্ত্রণতো দূরের কথা সরকার নিজেই এখন র‌্যাব আর পুলিশের অধীন। কারণ সরকারের দূর্নীতি এতোটাই বেশি যে পুলিশ বা র‌্যাবের বিরুদ্ধে আঙ্গুল তুললে সরকারকেই পস্তাতে হবে।
আগামীতে এরাই যদি আবার দেশের শাসন ভার গ্রহণ করে তবে আমাদের বাঙালি জাতি হিসেবে পরিচয় প্রদানে লজ্জা হওয়া উচিত। কারণ, বাঙালি ইতিহাস স্বীকৃত বীর জাতি। যাঁরা অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে না। শেরে এ বাংলা একে ফজলুল হক, মাওলানা ভাসনী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মাও লজ্জা পাবে আমাদের এই অধঃপতন দেখে।
Print Friendly

About the author

ডিসেম্বর ৭১! কৃত্তনখোলার জলে সাঁতার কেটে বেড়ে ওঠা জীবন। ইছামতির তীরঘেষা ভালবাসা ছুঁয়ে যায় গঙ্গার আহ্বানে। সেই টানে কলকাতার বিরাটিতে তিনটি বছর। এদিকে পিতা প্রয়াত আলাউদ্দিন আহমেদ-এর উৎকণ্ঠা আর মা জিন্নাত আরা বেগম-এর চোখের জল, গঙ্গার সম্মোহনী কাটিয়ে তাই ফিরে আসা ঘরে। কিন্তু কৈশরী প্রেম আবার তাড়া করে, তের বছর বয়সে তের বার হারিয়ে যাওয়ার রেকর্ডে যেন বিদ্রোহী কবি নজরুলের অনুসরণ। জীবনানন্দ আর সুকান্তে প্রভাবিত যৌবন আটকে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পদার্পন মাত্রই। এখানে আধুনিক হবার চেষ্টায় বড় তারাতারি বদলে যায় জীবন। প্রতিবাদে দেবী আর নিগার নামের দুটি কাব্য সংকলন প্রশ্ন তোলে বিবেকবানের মনে। তার কবিতায়, উচ্চারণ শুদ্ধতা আর কবিত্বের আধুনিকায়নের দাবী তুলে তুলে নেন দীক্ষার ভার প্রয়াত নরেণ বিশ্বাস স্যার। স্যারের পরামর্শে প্রথম আলাপ কবি আসাদ চৌধুরী, মুহাম্মদ নুরুল হুদা এবং তৎকালিন ভাষাতত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজীব হুমায়ুন ডেকে পাঠান তাকে। অভিনেতা রাজনীতিবিদ আসাদুজ্জামান নূর, সাংকৃতজন আলী যাকের আর সারা যাকের-এর উৎসাহ উদ্দিপনায় শুরু হয় নতুন পথ চলা। ঢাকা সুবচন, থিয়েটার ইউনিট হয়ে মাযহারুল হক পিন্টুর সাথে নাট্যাভিনয় ইউনিভার্সেল থিয়েটারে। শংকর শাওজাল হাত ধরে শিখান মঞ্চনাটবের রিপোটিংটা। তারই সূত্র ধরে তৈরি হয় দৈনিক ভোরের কাগজের প্রথম মঞ্চপাতা। একইসমেয় দর্শন চাষা সরদার ফজলুল করিম- হাত ধরে নিযে চলেন জীবনদত্তের পাঠশালায়। বলেন- মানুষ হও দাদু ভাই, প্রকৃত মানুষ। সরদার ফজলুল করিমের এ উক্তি ছুঁয়ে যায় হৃদয়। সত্যিকারের মানুষ হবার চেষ্টায় তাই জাতীয় দৈনিক রুপালী, বাংলার বাণী, জনকণ্ঠ, ইত্তেফাক, মুক্তকণ্ঠের প্রদায়ক হয়ে এবং অবশেষে ভোরেরকাগজের প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়ান ৬৫টি জেলায়। ছুটে বেড়ান গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। ২০০২ সালে প্রথম চ্যানেল আই-্র সংবাদ বিভাগে স্থির হন বটে, তবে অস্থির চিত্ত এরপর ঘনবদল বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, আমাদের সময়, মানবজমিন ও দৈনিক যায়যায়দিন হয়ে এখন আবার বেকার। প্রথম আলো ও চ্যানেল আই আর অভিনেত্রী, নির্দেশক সারা যাকের এর প্রশ্রয়ে ও স্নেহ ছায়ায় আজও বিচরণ তার। একইসাথে চলছে সাহিত্য বাজার নামের পত্রিকা সম্পাদনার কাজ।