আমাদের রাজনীতি: আর কবে সভ্য হবে?

আরিফ আহমেদ

daaa১৯৭২ থেকে ‘৭৪ রক্ষীবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ দিয়ে সূচনা হয়েছিল রাজনীতির অসভ্য ওঠা। তারপর এলো ১৯৭৫-এর ১৫ আগষ্ট। সে-ই কালোরাতে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ দিয়ে পুরোমাত্রায় অসভ্য হয়ে উঠলো বাংলার রাজনীতি। ‘৭৫ থেকে ‘৮০। সেনাকুঞ্জে হত্যাযজ্ঞ চললেও সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তিতে ছিল। এরপর ১৯৮১-এর হত্যাযজ্ঞ পথ দেখালো পরবর্ত নুরুলদীন, মিলনসহ অসংখ্য হত্যা গুমের নতুন নতুন খেলা। ১৯৯০ ছাত্র-জনতার পুনঃজাগরণ। বুক ভরা নতুন স্বপ্ন, এবার বুঝি গণতন্ত্র আসবে-ই।
হায় গণতন্ত্র !
৯১ থেকে ৯৫ কিছুটা স্বস্তিতে কাটলেও হরতাল-ভাংচুর আর হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন বেড়েছে। রাজনৈতিক চাঁদাবাজী-সন্ত্রাস আর জঙ্গীবাদের উত্থানের সূচনালগ্ন বলা যায় এই সময়টাকে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ অসভ্য রাজনীতির মাতাচারা দিয়ে ওঠা। এই সময় প্রথম বরিশালের গৌরনদীতে চার্চে বোমা হামলা চালানো হয়। ১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ যশোরে উদীচীতে বোমা হামলায় ১০ জন নিহত ও অসংখ্য মানুষ পঙ্গু হয়ে যায়। রক্তলাল গণতন্ত্র সব স্বপ্ন ধুলিসাৎ করে দেয় ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে রমনাপার্কে বোমা হামলা চালিয়ে। এরপর শুরু হয় জঙ্গীবাদ। শুরুটা ময়মনসিংহের সিনেমা হলে বোমা বিস্ফরণ দিয়ে হলেও শেষটা হয়েছিল  ২১ আগস্ট শেখ হাসিনার উপর বোমা হামলা এবং এই ঘটনায় আইভী রহমানসহ ১৮ জনের নির্মম মৃত্যু দিয়ে। পিলখানায় বিডিআর আর সেনাবাহিনীতে আসলে কি ঘটেছিল? কেন ঐই হত্যাযজ্ঞ? এটাও কি রহস্য-ই থেকে যাবে? এই সব হত্যাকা-ের কোনো বিচার কখনোই শেষ হয়নি। বিচার কার্যক্রম আজো চলছে-ই। এই যদি হয় গণতন্ত্রের বিচার ব্যবস্থা, সেখানে হত্যাকা- বা গণহত্যার ঘটনায় ন্যায় বিচার কি আদৌ কখনো পাওয়া যাবে? যাবেনা বা হবে না জেনেই আজ আমাদের রাজনীতি ক্রমশ অসভ্য থেকে নোংরা হয়ে উঠেছে। যার প্রমাণ আমাদের বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্পষ্ট।
এই যে ক্ষমতায়নের শেষ মুহুর্তে এসে আওয়ামীলীগ সরকার হঠাৎ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রমে ব্যতিব্যস্ত হল, এটা কেন? কেন তারা আরো আগেই এই কাজ শুরু করেনি? তারা কি আদৌ এই বিচারকার্য সম্পাদন করতে চেয়েছে? নাকি এটাও বিএনপির জজমিয়া টাইপের পাতানো নাটক ছিল? প্রজন্ম চত্বর তৈরি করে ব্লগাররা ও পরবর্তীতে গণজাগরণমঞ্চ এসে যে নাটককে ভেস্তে দিয়েছে। জামায়াত-শিবিরকে উচকে দিয়ে ১৮ দল থেকে তাদের পৃথক করে নিজ দলে টানার ষড়যন্ত্র টের পেয়ে যায় অত্যন্ত কৌশলী বাম ঘরানার মহাজোট শরীকরা। নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে তারাও সঙ্গে সঙ্গে প্রজন্ম চত্বরকে বদলে দেয় গণজাগরণের মঞ্চে। এতে করে কিছু ঘটুক বা না ঘটুক দেশে একটা অরাজকতা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে আওয়ামী লীগসহ মহাজোট সরকার। এতে করে বিরোধী দল ও তাদের একতরফা দাবী তত্বাবধায়ক সরকারের প্রসঙ্গ এখন অনেক হাল্কা হয়ে গেছে, বলতেই হয়। হেফাজতে ইসলামের উত্থাণ বিষয়টি যদি আমরা গুরুত্ব সহকারে শুরু ও শেষটা ভেবে দেখি তবে কিছু চিত্র স্পষ্ট হবে। যেমন, হেফাজত উত্থান মাত্র-ই সরকার দলীয় মন্ত্রীদের তাদের কাছে ছুটে যেয়ে গোপন বৈঠক করা, তাদের প্রথম সমাবেশে ব্যাপক বাধা তৈরি করে নিজেদের হেফাজত বিরোধী প্রমাণ করা, পরবর্তীতে তাদের ১৩ দফা দাবীর প্রতি সমর্থন প্রদান এবং সর্বশেষ তাদের ঢাকা অবরোধের সুযোগ প্রদান এবং বায়তুল মোকাররমের পরিবর্তে শাপলা চত্বরে সমাবেশের অনুমতি দিয়ে চরম বাধা প্রদান পুরো বিষয়টাই ছিল পূর্ব পরিকল্পিত নোংরা রাজনীতির খেলা। রাতের আধারে হামলা চালিয়ে হেফাজত কর্মীদের হত্যা ও ঢাকা ত্যাগে বাধ্য করার এই নাটকে বিরোধী দল বিএনপি-জামায়াতসহ ১৮ দলীয় জোটকে নাস্তানাবুদ করাই ছিল এই নাটকের অন্যতম উদ্দেশ্য।
বিরোধী দল বিএনপি গত এক-এগারো থেকেই নাস্তানাবুদ হয়ে আছে। মাত্র তিনের এক ভাগ আসন পাওযার লজ্জায় সংসদে বসে থাকার মনোবল পাবে কোথায়? হাওয়া ভবনে তারেক ও কোকোর অসৎ আচরনের ফল তো তাদের ভোগ করতেই হবে। সুষ্ঠধারার নির্বাচন হলে আগামী নির্বাচনেও দেশবাসী তা ভুলবে বলে মনে হয় না। তারপরও নির্বাচনটা সুষ্ঠ হওযা জরুরী। মহাজোট সরকার হঠাৎ করে তত্ত্বাবধায়ক প্রথা বাতিল করে এই নির্বচনকে অযথা-ই বিতর্কে নিয়ে এসেছে। কেন তা তারা-ই ভালো বলতে পারবেন। তবে বাংলাদেশের মানুষ সেই ৭২ থেকেই সবসময়-ই ভালো আর যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজে বেড়াচ্ছে। শহীদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্য তাদের কান্না-ই এতোদিন এই দুটি দলকে আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিয়ে এসেছে। দুটি দলের প্রধানের প্রতি-ই ছিল গভীর মমতা ও সহানুভুতি। যেটাকে তারা নেত্রীদ্বয় মানুষের দুর্বলতা বলে ভুল করছেন। (গত ১২ মে একুশে টেলিভিশনের মাঝরাতের টক শো’তে আওয়ামী লীগের ইসরাফীল আলম এমপি’র উদ্ধ্যত উচ্চারণ “পারলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে কিছু করে দেখান ”- এটা তার-ই প্রমাণ।)  সাধারণ মানুষের প্রতি আস্থা হারিয়েছেন এই দুই নেত্রী। নৌকা আর ধানের শীষ মার্কায় কলাগাছকে দাড় করাবার ভরসা এখন আর কারো মধ্যেই নেই। সুচতুর বাম নেতারা এটা আওয়ামী নেত্রীকে বোঝাতে পেরেছেন বলেই হঠাৎ বিলুপ্ত হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রথা। এখন নির্বচন যেভাবেই হোক মহাজোটের দখলেই থাকবে ক্ষমতা। অন্যথায় কোয়ালিশন সরকার ছাড়া কোনো বিকল্প নেই এবার কোনো জোটেরই।

Print Friendly

About the author

ডিসেম্বর ৭১! কৃত্তনখোলার জলে সাঁতার কেটে বেড়ে ওঠা জীবন। ইছামতির তীরঘেষা ভালবাসা ছুঁয়ে যায় গঙ্গার আহ্বানে। সেই টানে কলকাতার বিরাটিতে তিনটি বছর। এদিকে পিতা প্রয়াত আলাউদ্দিন আহমেদ-এর উৎকণ্ঠা আর মা জিন্নাত আরা বেগম-এর চোখের জল, গঙ্গার সম্মোহনী কাটিয়ে তাই ফিরে আসা ঘরে। কিন্তু কৈশরী প্রেম আবার তাড়া করে, তের বছর বয়সে তের বার হারিয়ে যাওয়ার রেকর্ডে যেন বিদ্রোহী কবি নজরুলের অনুসরণ। জীবনানন্দ আর সুকান্তে প্রভাবিত যৌবন আটকে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পদার্পন মাত্রই। এখানে আধুনিক হবার চেষ্টায় বড় তারাতারি বদলে যায় জীবন। প্রতিবাদে দেবী আর নিগার নামের দুটি কাব্য সংকলন প্রশ্ন তোলে বিবেকবানের মনে। তার কবিতায়, উচ্চারণ শুদ্ধতা আর কবিত্বের আধুনিকায়নের দাবী তুলে তুলে নেন দীক্ষার ভার প্রয়াত নরেণ বিশ্বাস স্যার। স্যারের পরামর্শে প্রথম আলাপ কবি আসাদ চৌধুরী, মুহাম্মদ নুরুল হুদা এবং তৎকালিন ভাষাতত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজীব হুমায়ুন ডেকে পাঠান তাকে। অভিনেতা রাজনীতিবিদ আসাদুজ্জামান নূর, সাংকৃতজন আলী যাকের আর সারা যাকের-এর উৎসাহ উদ্দিপনায় শুরু হয় নতুন পথ চলা। ঢাকা সুবচন, থিয়েটার ইউনিট হয়ে মাযহারুল হক পিন্টুর সাথে নাট্যাভিনয় ইউনিভার্সেল থিয়েটারে। শংকর শাওজাল হাত ধরে শিখান মঞ্চনাটবের রিপোটিংটা। তারই সূত্র ধরে তৈরি হয় দৈনিক ভোরের কাগজের প্রথম মঞ্চপাতা। একইসমেয় দর্শন চাষা সরদার ফজলুল করিম- হাত ধরে নিযে চলেন জীবনদত্তের পাঠশালায়। বলেন- মানুষ হও দাদু ভাই, প্রকৃত মানুষ। সরদার ফজলুল করিমের এ উক্তি ছুঁয়ে যায় হৃদয়। সত্যিকারের মানুষ হবার চেষ্টায় তাই জাতীয় দৈনিক রুপালী, বাংলার বাণী, জনকণ্ঠ, ইত্তেফাক, মুক্তকণ্ঠের প্রদায়ক হয়ে এবং অবশেষে ভোরেরকাগজের প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়ান ৬৫টি জেলায়। ছুটে বেড়ান গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। ২০০২ সালে প্রথম চ্যানেল আই-্র সংবাদ বিভাগে স্থির হন বটে, তবে অস্থির চিত্ত এরপর ঘনবদল বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, আমাদের সময়, মানবজমিন ও দৈনিক যায়যায়দিন হয়ে এখন আবার বেকার। প্রথম আলো ও চ্যানেল আই আর অভিনেত্রী, নির্দেশক সারা যাকের এর প্রশ্রয়ে ও স্নেহ ছায়ায় আজও বিচরণ তার। একইসাথে চলছে সাহিত্য বাজার নামের পত্রিকা সম্পাদনার কাজ।