আজিম আকাশ এর তিনটি কবিতা

সাহিত্য বাজার

আজিম আকাশ এর তিনটি কবিতা

Azim-Nফেরা হলো না

আজো ফেরা হলো না মুক্তিযোদ্ধা খোকার,
৭১ এর রক্তিম সূর্যটা ছিনিয়ে আনবে বলে
সেই যে কবে বেড়িয়েছে ঘর থেকে,
তারপর দেখতে দেখতে একে একে
কেটে গেল তিন যুগ আর পাঁচ পাঁচটি বছর;
তবুও শেষ হয় না মায়ের, প্রতিক্ষার শেষ প্রহর।

আজো হদিস মিলেনি কোথাও তাঁর,
আজো আকাশ-বাতাস বয়ে বেড়ায় ৩০ লক্ষ –
শহীদের পঁচা-গলা লাশের থমথমে গন্ধ,
আজো প্রকৃতির কোলে নি:শব্দে-নিভৃতে বাঁজে
বুলেট-গ্রেনেডে ঝাঝড়ানো শহীদের আতœচিৎকার;
যেন কত-শত মায়ের বুক খালি করা শহীদের-
এক সাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতার অধিকার।

শূন্য আঁচল পূর্ণ করার প্রতিক্ষায় মা তাঁর
আজো পথপানে চেয়ে থাকে নিষ্পলক,
দু’চোখে যতটুকু ছিল নোনাজল তা আজ
ক্রমশ শুকিয়ে হয়েছে চৈত্রের দাবদাহ অনল।

তবুও আশায় বুক বেঁধে দিন কাটে স্বপ্নময়তায়
মেঘের আঁচল ভেদ করে হয়তো খোকা-
একদিন আসবে শূন্য আঁচল পূর্ণ করতে;
৭১ এর সেই কালো রাতের বিভীষিকা খোকাকে-
ফিরিয়ে এনে, আজো পারেনি মায়ের স্বপ্ন গড়তে।

মায়ের মন তবুও গর্জে উঠে বুক ফাঁটা গর্বে-আনন্দে
জাতির জন্য খোকা দিয়েছে নিজের প্রাণ বিসর্জন;
এ যেন দামাল প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন।

প্রতিনিয়ত জ্বলে-পুড়ে অঙ্গার হয়, মায়ের পোড়া মন-
জীবন যুঝায় নিজের সাথেই সংগ্রাম করেন আমরণ;
তবুও জাতির মুখে ফোঁটাতে একরাশ বিজয়ের হাসি
সন্তানহীনতায় দু:খকে করেছেন তিনি, সাদরে বরণ।

শত কষ্ট বুকে চেপে রেখে, খোকা আসবে ভেবে-
বেঁচে থেকেও যেন মা, আজ জীবন্মৃত এক শ্মশাণ;
যেন ইতিহাস খ্যাত আরেকটি জাহানারা ইমাম,
তাইতো তাদের ত্যাগের মহিমায়, আজো আমরা-
বিজয় দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলীর মাঝে, করি তাঁদের সন্মান।
–০–

একটি কবিতা

লিখি লিখি করে আজো হলো না
লেখা একটি নতুন কবিতা,
যার গদ্যে-পদ্যে জড়ানো রবে
লাল-সবুজ বৃত্তের ইতিহাস।

আজো হলো না বলা-
আজাদের না ফেরার কথা;
গভীর প্রতিক্ষায় পথ চেয়ে
বসে থাকা মায়ের কষ্টের অনুভূতি-
তথা ২৫ বছরের ইতিকথা।

কি আর হবে-
সেই ৭১ এর আগুন ঝড়া
ইতিহাসের কথা শুনে?
জাতি কি পেরেছিল দিতে
ত্যাগের বিনিময়ে আজাদের প্রতিদান;
পেয়েছে কি ছেলেহারা মা-
জাহানারা ইমাম, তার প্রাপ্য সন্মান?

সময়ের লেপটে যাওয়া বিবর্তনে
হয়তো অনেকেই তার রাখেনি খবর;
তাই জাতির ইতিহাস আজ সভ্যতার-
দেয়ালে মাথা ঠুকে অনেকটাই নড়বড়।

সময় সে তো থেমে থাকার নয়
সভ্যতার পর সভ্যতার ক্রমবিবর্তনে,
রচে যায় কিছু ঠুনকো ইতিহাস;
যা এক সময় বিবেকের ভ্রুকুটি ভেদ করে
গর্জে উঠে কথা বলতে শিখে,
বিক্ষোভ-প্রতিবাদও হয় চারদিকে।

মাঝে মাঝে হয়তো জাতির বিবেক
হোচট খেয়ে, প্রশ্নবিদ্ধ হয় বার বার;
কি আর করার থাকে তবে,
যবে নীতিহীন নিয়মে আইন ভাঙে যতবার?

৩০ লক্ষ প্রাণের ত্যাগের বিনিময়ে
অবশেষে তবে কি পেয়েছি আমরা?
গণতান্ত্রিক চর্চায় কিছু বেহিসেবী দলাদলি
আর স্ব-স্ব রাশভারির প্রতিযোগিতা;
যার লেশ ধরে লেখা যেত একটি কবিতা।
–০–

অসম্ভব অন্ধকার

অসম্ভব অন্ধকার করেছে পৃথিবীকে গ্রাস
চন্দ্র-সূর্য গ্রহণ তার চেয়ে ভয়াল ত্রাস।
যাদের হৃদয় আজ অদ্ভুত আঁধারে পূর্ণ
তাদের পরামর্শেই হয় রাষ্ট্র আলোকিত;
যাদের মনে প্রেম কিংবা ভালবাসা নেই
তাদের দ্বারাই রাষ্ট্রিয় সমাবেশ পুলকিত।
যাদের দ্বারা গঠিত হয় সংসদীয় সংবিধান
কিংবা নব নব সভ্যতায় আইন প্রনয়ণ,
তাদের দ্বারাই বার বার বিক্ষিপ্তরূপে হচ্ছে
সংবাদপত্রের বাক স্বাধীনতার হরণ।
যাদের দ্বারা আইন শৃঙ্খলার পরিস্থিতি
হবার কথা তিলে তিলে সর্বদা অগ্রগতি,
তারাই চাঁদাবাজী, ত্রাস আর অবিচার করে
আইনের পরিস্থিতিকে করছে অবনতি।
যাদের দ্বারা জনসমষ্টির দুঃখ ঘোচবে
ডিজিটারূপে দিন বদলের পালায়,
তাদের ইশারায় নির্মমভাবে দেশে
ধ্বংসাযজ্ঞ চলছে আজ অবলীলায়।
৩০ লক্ষ শহীদ প্রাণের আতœাহুতিতে
অর্জিত আমার এই স্বাধীন গণতন্ত্র,
অনিয়ম আর দুর্শাসনের ছত্রছায়ায়
চলছে আজ সর্বত্র রাষ্ট্রিয় আমলাতন্ত্র।
–০–
টঙ্গিবাড়ি, মুন্সীগঞ্জ।
মোবাঃ ০১৬২৪ ৯৬৫১৭০
মেইল: azim.writer@gmail.com

Print Friendly