আওয়ামী লীগ বিএনপিকে জবাব দিতেই হবে : পীর হাবিবুর রহমান

সাহিত্য বাজার

আওয়ামী লীগ বিএনপিকে জবাব দিতেই হবে

Peer hপীর হাবিবুর রহমান

১. কথা রাখেনি আওয়ামী লীগ। কথা রাখেনি বিএনপি। আওয়ামী লীগের যেসব নেতা জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে আদর্শের বড় বড় কথা বলে পাঁচটি বছর গণমাধ্যম থেকে মাঠ-ময়দান মাতিয়ে রেখেছেন সেই তারা আজ একতরফা ভোটের ময়দানে দিনদুপুরে ডাকাতির মতো বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে রাতের আঁধারে বৈঠক নয়, গোপন করমর্দন নয়, রীতিমতো নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত-শিবিরের নেতাদের দলে যোগদান করিয়ে বুকে টেনে নিয়েছেন। শীতের ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা পেতে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে উষ্ণ আলিঙ্গনাবদ্ধ হয়েছেন। এ দৃশ্য যারা দেখছেন তারা স্তম্ভিত হয়েছেন। যে জামায়াত-শিবিরকে সন্ত্রাসবাদী দল বলে চিহ্নিত করেছেন সেই তাদের বুকে টেনে নিয়ে পাঁচ বছর ধরে তারা তাদের সংগ্রামের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। না হয় তারা যা বলে আসছেন তা অসত্য প্রমাণ করেছেন। প্রমাণ করেছেন মুখের ভাষা আর মনের ভাষা এক নয়। বিএনপিকে যতবার বলা হচ্ছিল জামায়াত-শিবিরের সঙ্গ ত্যাগ করতে ততবার তাদের নেতাদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন ওদের ছাড়লেই আওয়ামী লীগ নিয়ে যাবে না তার গ্যারান্টি কোথায়? সেই অভিযোগও যে উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয় তা জামায়াত-শিবির নেতাদের আওয়ামী লীগে যোগদান করিয়ে নেতারা প্রমাণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী থেকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদাভঙ্গের এই জবাব আজকের শাসক আওয়ামী লীগকে দিতেই হবে।

২. বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া ঘোষিত ২৯ ডিসেম্বরের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ বা পল্টনের সমাবেশ সরকার আগেই নিষিদ্ধ করেছিল। কিন্তু বিএনপি নেতৃত্ব তাদের ঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে ছিলেন মরিয়া। এতে সারা দেশ অচল হয়ে পড়েছিল। নগরীর গণপরিবহন থেকে দূরপাল্লার বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সাধারণ মানুষ পথে পথে তল্লাশির শিকার হয়েছিল। তবুও বিএনপির শীর্ষ নেতারা বারবার বলেছিলেন যে কোনো মূল্যে তারা তাদের কর্মসূচি করবেনই। মাটি ফুঁড়ে সেদিন মানুষ বেরিয়ে আসবে- এমন কথা বলতেও দ্বিধা করেননি। কিন্তু বিএনপির রাজনীতির প্রতি অনুগত সারা দেশের নিবেদিতপ্রাণ পোড় খাওয়া নেতা-কর্মীরা সরকারের সাঁড়াশি অভিযানের মুখে ঢাকায় ছুটে এসেছিল। তাদের মতো করে বিভিন্ন হোটেল ও আত্দীয়স্বজনের বাড়িতে ঠাঁই নিয়েছিল। এতটা ঝুঁকির পথ পাড়ি দিয়ে এসে তারা যখন দেখল ১ কোটি ২০ লাখ মানুষের ঢাকা নগরীতে বিএনপির এক শ জন নেতাও সাহস করে দাঁড়াননি বা গ্রেফতার হওয়ার সক্ষমতা দেখাননি তখন তারা আর মাঠে নামার প্রয়োজন মনে করেনি। অথচ কর্মসূচির আগের দিনও কেউ ভিডিও কনফারেন্স, কেউ সংবাদ সম্মেলন, কেউ বা বিবৃতির মাধ্যমে রাজপথে নামার অঙ্গীকার করেছিলেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটি বা নির্বাহী কমিটির হাতে গোনা তিন-চার জন নেতা ও একজন উপদেষ্টাকে পল্টন এলাকায় দেখা গিয়েছিল। এর মধ্যে ইনাম আহমদ চৌধুরী একজন যিনি আটক হয়ে পরে মুক্ত হন। আর মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ সন্ধ্যায় পর দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে গ্রেফতার হন। প্রশ্ন উঠছে, মফস্বল নেতাদের ঢাকায় এসে যেসব মহানগর নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছিল তারা মোবাইল বন্ধ রেখেছিলেন কেন? দলের স্থায়ী কমিটি ও বিশাল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির হাতে গোনা কয়েকজন কারাগারে থাকলেও বাকিরা প্রকাশ্যে বেরিয়ে এলেন না কেন? গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার ইতিহাস আন্দোলনের ইতিহাস। ছাত্রদল নেতাদের ইতিহাস আন্দোলনের। জেল খাটার। আজকের বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও নির্বাহী কমিটির এত বড় বড় নেতা কেন সেদিন রাজপথে নামেননি? ছাত্রদল বলে বিএনপির কোনো ছাত্র সংগঠনের অস্তিত্ব আছে কি? ঢাকা মহানগর বিএনপির দুই গ্রুপের হাতাহাতির ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এত বড় বড় নেতারা সেদিন গেলেন কোথায়? দিনের পর দিন অবরোধ ডেকে নেতারা নিরাপদ থাকবেন, জেলও ঘাটবেন না। অন্যদিকে মাঠকর্মীদের লাশ পড়বে, জনদুর্ভোগ বাড়াবেন, অর্থনীতিতে মহাবিপর্যয় ডেকে আনবেন- এ কোন রাজনীতি? বিএনপি তো আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতি করে না। তাহলে নেতারা রাজপথে নামবেন না, দেশ অচল করে রাখবেন- এ কেমন কর্মসূচি? সর্বশেষ পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির আনকোরা প্রার্থীরা যে বিশাল বিজয় লাভ করেছিলেন তাতে শেখ হাসিনার অধীনেও যদি আন্দোলনের অংশ হিসেবে এ ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হতেন ধানের শীষ নিয়ে তাহলে আজকের রাজনীতির চেহারাই অন্যরকম থাকত। গণরায় ছিনতাই হলে ভোট কেন্দ্র থেকেই বিএনপি গণমানুষকে সম্পৃক্ত করে গণআন্দোলনে দেশ উত্তাল করতে পারত। তখন প্রশাসনও আজকের ভূমিকা নিতে নৈতিক শক্তি হারিয়ে ফেলত। বিএনপি নামের দলটি মধ্যপন্থি ধারা থেকে সরতে সরতে উগ্রপন্থি ডানদের সঙ্গে এমন কী কারণে এতটা জড়িয়ে গেল যে জামায়াতকে ছাড়তে পারল না। দুনিয়ার হালহকিকত, হাওয়া-বাতাস বোঝার পরও বৃহত্তম গণতান্ত্রিক ভারতের নেতা বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু প্রণব মুখার্জির সঙ্গে শিবিরের হরতালে খালেদা জিয়াকে দেখা করতে দেওয়া হলো না। যেখানে বিএনপি দুয়ারে দুয়ারে সংলাপের জন্য ঘুরেছে, আশরাফের সানি্নধ্যের জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনেছে সেখানে গোটা জাতিকে অবহিত করে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে নৈশভোজ সংলাপের দাওয়াত করেছিলেন তা কবুল কেন করলেন না বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া, তার জবাব বিএনপিকে দিতেই হবে। বিরোধীদলীয় নেতা ২৯ ডিসেম্বর মার্চ ফর ডেমোক্রেসিতে অংশ নিতে ঘর থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কি জানেন তখন পল্টনের দলীয় কার্যালয়ের সামনে তার দলের একজন নেতাও ছিলেন না? তাহলে তিনি কোথায় যেতেন? তিনি যখন গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছিলেন তখনো গৃহকর্মী ছাড়া দলের একজন নেতা তার পাশে দাঁড়াতে ছুটে যাননি। কেন- তার প্রশ্নের জবাব বিএনপির নেতা-কর্মীদের জন্য হলেও দিতে হবে। অথচ দুবারের গণরায়ে অভিষিক্ত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যখন পুলিশ কর্মকর্তাকে চুপ বেআদব, গোপালী, গোপালগঞ্জ জেলাই থাকবে না বলছিলেন তখন কি তার ভেতরে জমাট প্রতিহিংসার প্রকাশ ঘটেনি? প্রধানমন্ত্রীর উচ্চতায় এমন কথা মানায়?

৩. ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে যুদ্ধাপরাধের বিচারকে অন্যতম নির্বাচনী ইস্যু করে বিশাল গণরায় নিয়ে শেখ হাসিনার ইমেজের ওপর ভর করে মহাজোট ক্ষমতায় এসেছিল। ক্ষমতায় আসার পর যুদ্ধাপরাধের বিচারও শুরু হয়েছিল। বিচারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন জামায়াত নেতার ফাঁসিও কার্যকর হয়েছে। এখনো যুদ্ধাপরাধের বিচার শেষ হয়ে যায়নি। এখনো জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লড়ছেন। এ লড়াইয়ে অনেক আওয়ামী লীগ নেতা জীবন দিয়েছেন জামায়াত-শিবিরের হাতে। সেই রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। যে পুলিশের রক্ত ঝরেছে তার বাড়িতে পরিবারের কান্না এখনো থামেনি। পাঁচটি বছর আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের নেতারা এবং মন্ত্রীরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে এত কথা বলেছেন হামেশা মনে হয়েছে এ ইস্যুতেই তারা ক্ষমতায় এসেছেন এবং সরকার পরিচালনা করছেন। কিন্তু জামায়াত-শিবিরের হাতে নিহত আওয়ামী লীগ কর্মীদের রক্তের দাগ শুকানোর আগেই প্রকাশ্যে কুষ্টিয়ার নির্বাচনী সমাবেশে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ জেলা জামায়াতের রোকন, জামায়াতের শ্রমিক সংগঠনের সাবেক সভাপতি এবং পরিবহন মালিক সমিতির নেতা নওশের আলীকে আওয়ামী লীগে যোগদান করান। যে আওয়ামী লীগ বারবার বলে আসছে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের নিষিদ্ধ সংগঠন ফ্রিডম পার্টি এবং জামায়াতের জন্য তাদের দরজা বন্ধ সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিদিন শানিত করার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও স্থানীয় জামায়াত নেতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে নিয়েছে। আওয়ামী লীগের কোনো জেলা নেতা নন, কোনো সাধারণ প্রার্থী নন জাতীয় রাজনীতিতে সরকারের যেসব মন্ত্রী-নেতা পাঁচটি বছর অতিকথনে শীর্ষে রয়েছেন তাদের অন্যতম আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ভোটের স্বার্থে এ কাজটি করেছেন।

৪. ১৯৯৪ সালে তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে সংসদের ভেতরে-বাইরে জামায়াতের সঙ্গে ওঠাবসা, আন্দোলন এবং ২০০৭ সালের আগে ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গে পাঁচ দফা চুক্তি নিয়ে আওয়ামী লীগ এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। আজ দেশে আওয়ামী লীগ যখন নতুন করে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এবং এই শক্তিকে প্রতিহত করতে শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত মানুষকে আহ্বান জানাচ্ছে তখন হানিফের জামায়াতপ্রেম শুধু দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতাই নয়, মানুষের সঙ্গেও প্রতারণা নয় কী? এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ হাইকমান্ডকেই নয়, দলের সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তার অবস্থান খোলাসা করা উচিত। জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার ভঙ্গ করার জবাব আজকে আওয়ামী লীগকে দেশবাসীর সামনে দিতেই হবে। সংসদের ভেতরে-বাইরে জামায়াতের বিরুদ্ধে শাহবাগের তারুণ্যকে যে আওয়ামী লীগ সংগ্রামে সমর্থন জানিয়েছিল সেই শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ এখনো মাঠ ছাড়েনি। নতুন প্রজন্মকে সন্ত্রাসের মুখে ঠেলে দিয়ে জামায়াত নেতাকে বুকে টেনে নিয়ে ঘর করার অধিকার হানিফকে কে দিয়েছে? প্রধানমন্ত্রী বারবার ব্যাখ্যা দিয়েছেন তার আত্দীয় বলতে কাদের বোঝায়। যদিও গুঞ্জন আত্দীয়তার লতাপাতায় ঝুলে টারজানের মতোই হানিফ দলের এই গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় চলে আসেন। ওয়ান-ইলেভেনের পর আওয়ামী লীগ কাউন্সিলে জেলা নেতৃত্বে আসতে ব্যর্থ এই মাহবুব-উল আলম হানিফ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিস্ময় সৃষ্টি করেছিলেন। আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহ্যবাহী দলে একসময় ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যেরও একটি বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক অতীত থাকতে হতো। মাহবুব-উল আলম হানিফের সঙ্গে যতবার কথা হয়েছে একজন ভদ্র, বিনয়ী মানুষ হিসেবেই তাকে চিনেছি। তার আশরাফ আখলাক অনেক সম্ভ্রান্ত। অনেকবার তিনি বিভিন্ন উৎসবে তার বাড়িতে নিমন্ত্রণও করেছেন। যাওয়া হয়নি কখনো। একবার এক অনুষ্ঠানে পেয়ে বিনয়ী হানিফ বলেছিলেন, ‘আমি জানতাম আপনি আসবেন না’। উত্তরে শুধু হেসেছিলাম। আওয়ামী লীগের ওই কাউন্সিলে ঠাঁই পাওয়া আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হকের হাত ধরে জাতির বেদনাবিধুর শোকাবহ মাস আগস্টের ২৫ তারিখ একসময় শরীয়তপুর পৌর শিবিরের সভাপতি, জামায়াতের সক্রিয় কর্মী বি এম ইউসুফ আলী শোক দিবসের অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগে যোগদানের সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন। বি এম মোজাম্মেল হকের সঙ্গেও ছাত্রজীবন থেকে হালকা-পাতলা সম্পর্ক থাকলেও কখনো মাখামাখির পর্যায়ে গড়ায়নি। কিন্তু তার এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের উপর মহলের নীরবতা বিস্মিত করেছে। বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ সহিংসতার মুখে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছিলেন, ছাত্রলীগে শিবির অনুপ্রবেশ করেছে। তারাই আজ এ অপকর্ম করছে। সেই অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে সংগঠন থেকে বের করে দিতে দেখা যায়নি। কিন্তু আজকে গোটা বাংলাদেশের জনগণকে সুমহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ‘৭১-এর পরাজিত পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর দোসর জামায়াতকে প্রতিহত করার ঘোষণা যখন আওয়ামী লীগ ও তার শরিকরা দিচ্ছে তখন নির্বাচনী সমাবেশে ভোটের কাঙাল আওয়ামী লীগের হানিফরা জামায়াতের নেতাদের বুকে টানছেন, ঘরে নিচ্ছেন। কয়েক দিন আগে খবর বেরিয়েছে বগুড়ার এক পুলিশ কর্মকর্তা জামায়াতের এক নেতাকে বাঁচাতে তার কাছ থেকে ভাইয়ের নামে মূল্যবান জমি দলিল করে নিয়েছেন। সেই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আজকে ভোটের স্বার্থে জামায়াত নেতাদের দলে টেনে নেওয়ার এই নির্লজ্জ বেহায়াপনার দৃশ্য দেখে আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, আওয়ামী লীগকেই আজ জবাব দিতে হবে। রাজনীতিতে সব কিছুতেই শেষ কথা বলে কিছু নেই বলে পার পাওয়া যায় না। আজকের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি যা করছে তাতে জবাব দিতেই হবে।

৫. আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটি যখন প্রভাবশালী নেতাদের সক্রিয় অবস্থানে ছিল বর্ণময় তখন এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর খুনি ফারুক উপস্থিত ছিলেন। সে অনুষ্ঠানে দাওয়াত পেয়ে গিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের তৎকালীন ওয়ার্কিং কমিটির প্রভাবশালী সদস্য আজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম। তিনি জানতেন না সেখানে ফারুক রয়েছেন। যখন জেনেছেন তখন চলে এসেছিলেন। কিন্তু খুনির সঙ্গে একই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার অপরাধে ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলামকে ওয়ার্কিং কমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। দলের নেতা-কর্মীরাও সেটিকে গ্রহণ করেছিলেন। আজকের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে জামায়াত-শিবির প্রশ্নে রাজনীতি ও আওয়ামী লীগ যেখানে দাঁড়িয়ে সেখানে হানিফ-মোজাম্মেলের এই ভূমিকার পরিণতি কী, মানুষ তা দেখতে চায়। যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায় কার্যকর করায় পাকিস্তানের পার্লামেন্টকে সেখানকার জামায়াত যখন নিন্দা প্রস্তাব পাসে বাধ্য করায় তখন আওয়ামী লীগের হানিফ এখানকার জামায়াতকে দলে নেন!

(বাংলাদেশ প্রতিদিন http://www.bd-pratidin.com থেকে)

Print Friendly